ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাঞ্ছারামপুর উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত দূর্গারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতি এবং পাশের হার শতভাগ। যার মূলকারণ বসুন্ধরা গ্রুপ কর্তৃক বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে টিফিন বিরতির সময় ছাত্রছাত্রীর হাতে টিফিন তুলে দেয়া।
বিগত কয়েক বছর ধরে এই টিফিনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। পূর্বে টিফিনের সময় ছাত্রছাত্রীরা বাড়িতে গেলে অনেকে আর ফিরে আসতো না। এখন সকল ছাত্রছাত্রী সম্পূর্ণ ক্লাস করে এরপর বাড়িতে ফিরে যায়। ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষক আর শিক্ষিকাদেরও টিফিন দেয়া হয়। প্রতি ছাত্রছাত্রীর জন্যে বরাদ্ধ ৩০ টাকা। বিভিন্ন দিনে বিভিন্ন রকম খাবার সরবরাহ করা হয় এই টাকার মধ্যে।
যার মধ্যে রয়েছে বনরুটি, কলা, ডিম, কেইক, শিঙ্গারা এবং আপেল। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টিফিন বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ডিজিএম মাইমুন কবির, বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. চাঁন মিয়া সরকার, বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক মোশাররফ হোসেন, সিনিয়র অফিসার আমির হোসেন আনোয়ার, জামাল উদ্দিন প্রমুখ।
দূর্গারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আকলিমা আক্তার বলেন, এই টিফিন বিতরণের পূর্বে ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতি কম ছিল। পাশের হারও আশানরুপ হতো না। এখন শিক্ষকদেরও আন্তরিকতা এবং ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতির কারণে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে শতভাগ পাশসহ ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান মহোদয়সহ পরিবারের সকলের সুস্বাস্থ্য আর দীর্ঘায়ু কামনা করছি। পাশাপাশি বসুন্ধরা গ্রুপটি বাংলাদেশের প্রথমস্থানে থেকে যেন দেশবাসীর সেবা করতে পারে সেই জন্যে দোয়া করি।
৫ম শ্রেণির প্রথমস্থান অধিকারকারী রাহিম হাসান জায়েদ বলে, আমরা সকলে এখন সব ক্লাস করতে পারি, টিফিন পাওয়ার কারণে। যারা আমাদেরকে মজার মজার খাবার দেয় তাদের জন্যে দোয়া করি।
৪র্থ শ্রেণির প্রথমস্থান অধিকারকারী অনন্না আলম সায়মা বলে- আগে বন্ধুবান্ধব বিরতির সময় বাড়ি চলে যেতো। এখন এই টিফিন পাওয়ার পরে একজনও বাড়িতে যায় না। সামনের পরীক্ষায় পৌরসভার সকল স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সাথে প্রতিযোগিতা করবো ইন্শাল্লাহ এবং জয়লাভ করব। বসুন্ধরার সকল মালিকদের জন্যে দোয়া করি।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ