নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক সিটি কর্পোরেশন কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির বিরুদ্ধে দায়ের করা তিনটি হত্যা মামলায় তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার একটি হত্যা মামলায় ২ দিন এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পৃথক একটি হত্যা ও একটি হত্যা চেষ্টা মামলায় ৩ দিন ও ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. কাইউম খান জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার একটি স্বজন হত্যা মামলায় মতিকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হলে অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লাহ-আল-মাসুম উভয় পক্ষের শুনানী শেষে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
একই সাথে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার রিকশাচালক আব্দুল লতিফ হত্যা মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে উঠানো হলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাফিয়া শারমিম উভয় পক্ষের শুনানী শেষে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই আদালতে আল আমিন নামে এক যুবককে হত্যাচেষ্টার মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড চাইলে শুনানী শেষে আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি ও তার ছেলে বাবইকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ১৩ জানুয়ারি ভোরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মতিউর রহমান মতি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে। মতি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহ্বায়কও। সেই সাথে তিনি শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। যিনি গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতার ছাড়ার পর তিনি নারায়ণগঞ্জ ছেড়েছেন।
এর আগে একটি দুর্নীতি মামলায় কারাভোগ করেন মতি। আওয়ামী লীগের পতনের পূর্বেও মতিউর রহমান মতির বিরুদ্ধে ৬ কোটি ১ লাখ ৭২ হাজার ২৬৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনসহ ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৫ হাজার ৬৩৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে কারাভোগ করলেও তারও পূর্বে এই মতির বিরুদ্ধে ছিলো মামলা ও সাজা।
উল্লেখিত হিসাব ছাড়াও মতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকে ৮২ কোটি ৫১ লাখ ৪২৪ টাকা জমা করে তার থেকে ৭৪ কোটি ১৩ লাখ ৮৮ হাজার ৬৮৯ টাকা উত্তোলন করে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের অবস্থান গোপন করারও অভিযোগ ছিলো।
বিডি প্রতিদিন/আশিক