গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ডিজিটাল হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মা ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর হাসপাতালে লাশ ফেলে পালিয়েছেন চিকিৎসকসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে প্রথমে নবজাতক মেয়ে শিশু ও পরে রাত ১২টার দিকে প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়। প্রসূতি মা শিরিন আক্তার (২৬) ফুলছড়ি উপজেলার বাগবাড়ী এলাকার কছের সরদারের মেয়ে ও সবুজ মিয়ার স্ত্রী।
স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রসব বেদনা উঠলে শিরিন আক্তারকে ডেলিভারির জন্য বোনারপাড়া ডিজিটাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রসূতি মায়ের অস্ত্রপচারের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে অস্ত্রপচারের মাধ্যমে শিরিন আক্তার একটি মেয়ে সন্তান প্রসব করে। কিন্তু রাত ১১টার দিকে নবজাতক শিশুটির মৃত্যু হয়।
এদিকে, এ ঘটনার পর রাতেই ভুক্তভোগীর স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতাল ও ভাঙচুর করলে চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষ জীবনের ভয়ে পালিয়ে যায়। এরপর প্রসূতি মায়ের রক্তের প্রয়োজন দেখা দিলে হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এক পর্যায়ে রাত ১২টার সময় প্রসূতি মা শিরিন আক্তারের মৃত্যু হয়।
প্রসূতি শিরিন আক্তারের স্বামী সবুজ মিয়া, তার স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকলেও শিরিন আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর ভুল চিকিৎসার কারণে মা ও নবজাতক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এরআগেও হাসপাতালে একাধিক নবজাতক ও প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালটি বন্ধ করাসহ প্রসূতি মা ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষের কঠোর শাস্তির দাবি করেন স্বজনরা।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে ডা. আব্দুল হাকিম দাবি করেন, সঠিকভাবে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। নবজাতকের মৃত্যুর পর হাসপাতালে হামলা করলে ভয়ে চিকিৎসক ও নার্সরা পালিয়ে যায়। এ কারণে প্রসূতি মা রক্ত ও চিকিৎসার অভাবে মারা যান।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মনোরঞ্জন কুমার বর্মন জানান, এই ঘটনাটি তদন্তের মাধ্যমে হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশের পাহাড়া রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদশা আলম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল