ফরিদপুরের সদরপুরে প্রতিদিন খাল-বিল, নদী-নালাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত ট্রাক মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন প্রভাবশালীরা। রক্ষা পাচ্ছে না পদ্মা-আড়িয়ালখাঁ নদীর তীরসহ ফসলি জমি। চক্রটি ভেকু দিয়ে উর্বর জমির ওপরের অংশ (টপ সয়েল) মাটি কেটে বিক্রি করছে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে। এর প্রভাবে বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক নদীভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে। দিনকে দিন ছোট হয়ে আসছে সদরপুরের মানচিত্র। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ও অভিযোগে জানা গেছে, সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কয়েক মাস ধরে ব্যাপক আকারে শুরু হয়েছে মাটি কাটা। নদীসংলগ্ন তীর থেকে রাতের আঁধারে কেটে নেওয়া হচ্ছে মাটি ও বালু। এদিকে এসব মাটি নিয়ে বড় ট্রাক ও ট্রলি চলাচলের কারণে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। তা ছাড়া মাটি রাস্তায় পড়ে ভয়ানক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অল্প বৃষ্টিতেই ঘটছে দুর্ঘটনা।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক মাটি ব্যবসায়ী পুকুর খননের কথা বলে এবং কবরস্থান, মাদরাসা ও ঈদগা মাঠ ভরাট করার কথা বলে প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে গোপনে মাটি বিক্রি করছেন বিভিন্ন জায়গায়। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার চরনাসিরপুর ইউনিয়নের হাকি মাতুব্বরের কান্দিতে আড়িয়ালখাঁ নদীর পাড়ে দুটি পয়েন্টে, ঢেউখালী ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া হানিফ হাজির ডাঙ্গি পুরাতন লঞ্চ ঘাটের আড়িয়ালখাঁ নদীর পাড়ে তিনটি পয়েন্টে, পিঁয়াজখালী এলাকার শয়তানখালী পদ্মা নদীর পাড়ের তিনটি পয়েন্টে, সদর ইউনিয়নের চরব্রাহ্মন্দী এলাকায় দুটি পয়েন্টে, কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে, আকোটেরচর ইউনিয়নের কলা বাগানের পাশে পদ্মা নদীর পাড়ে দুটি পয়েন্টসহ উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট চলছে অবৈধ ভেকু ও ড্রেজার দিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলন। সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বছরজুড়েই অবৈধ মাটি ও বালু কাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তার পরও আমাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে একটি চক্র মাটি কেটে বিক্রি করছে। দিনে অভিযান চালালে রাতে মাটি কাটছে। এ বিষয়ে ফসলি জমি রক্ষায় জমির মালিকদেরও সচেতন হতে হবে।