দিনাজপুরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষের কাছে কদর বেড়েছে বিভিন্ন প্রজাতির কাঠের রেডিমেড ফার্নিচারের। তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায় এসব পণ্য। ফলে স্বল্প আয়ের মানুষ ভিড় করছে রেডিমেড ফার্নিচারের দোকানে। জেলার গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন হাটে বসে এসব ফার্নিচারের অস্থায়ী দোকান। চাহিদা ও কদর থাকায় এবং পণ্য বিক্রি বাড়ায় এ হাট পরিচিতি পাচ্ছে রেডিমেড ফার্নিচার হাট নামে।
জেলার সবচেয়ে বড় কাহারোল হাট বসে সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার। এখানে কাঠের তৈরি আসবাবপত্রের সরবরাহ থাকে বেশি। ক্রেতা বেশি হওয়ায় বাড়ে বিক্রি। এ হাটে গড়ে ওঠা ফার্নিচার কারখানা থেকে আসবাবপত্র সরবরাহ হয় বিভিন্ন জায়গায়। দরিদ্র জনগোষ্ঠী ছাড়াও সচ্ছল পরিবারের মানুষের মধ্যে দিনদিন বাড়ছে এর কদর। বিক্রি হচ্ছে গ্রামগঞ্জের হাটবাজারে। এ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েক হাজার পরিবারের জীবিকা ফার্নিচার বিক্রির ওপর নির্ভরশীল।
বিভিন্ন কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, সকালে শুরু হয়ে রাত ১০টা-১১টা পর্যন্ত কাঠের আসবাবপত্র তৈরি করছেন কারিগররা। রেডিমেড আসবাবপত্রের মধ্যে রয়েছে টেবিল, চেয়ার, আলমারি, দরজা, জানালা, খাট, টি টেবিল, ডাইনিং টেবিল, আলনা, বেঞ্চ। সোহাগ, আবদুল জলিলসহ কয়েকজন ক্রেতা বলেন, ‘রেডিমেড ফার্নিচারগুলো স্বল্প দামে কিনতে পারছি। আমরা গরিব মানুষ তাই আমাদের ছেলেমেয়েরা এসব ব্যবহার করে খুব খুশি।’ আবদুর রহিমসহ কয়েকজন ফার্নিচার কারখানার মালিক জানান, ’৯০-এর দশকের পর বাজারে লোহা ও স্টিলের ফার্নিচার এলে কাঠের তৈরি ফার্নিচার তৈরি ও বিক্রিতে ধস নামে। কাঠের ফার্নিচারের কারিগরসহ এ পেশায় জড়িত অনেকে কর্মহীন হয়ে পড়েন। অন্য পেশায় চলে যান কেউ কেউ। এখন রেডিমেড আসবাবপত্রের চাহিদা দেখে কাহারোল সদরে ৫০টির অধিক কাঠের রেডিমেড ফার্নিচার কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব ফার্নিচার উপজেলা ও জেলার বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হয়।
বিভিন্ন হাটবাজারেও বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যান দোকান মালিক ও কারিগররা।