ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে নিহত ফেলানী হত্যার বিচার, ভারতের সঙ্গে সব চুক্তি প্রকাশ ও অসম সব চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
(মঙ্গলবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভাস্কর্য চত্বরে 'জবি শিক্ষার্থী ফোরামের' আয়োজনে এ বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। এ-সময় শিক্ষার্থীরা ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী লেখা সংবলিত বিভিন্ন প্লাকার্ড হাতে ‘সীমান্ত মানুষ মরে, প্রশাসন কি করে’ ওয়াসিব সাইদ মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ', 'ফেলানী হত্যা দিচ্ছে ডাক, সীমান্ত হত্যা নিপাত চাই', বাতিল করো বাতিল করো, অসম চুক্তি বাতিল করো' সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, সীমান্তে ভারতীয় আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে। ফেলানী সহ সব হত্যার দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ভারতের সঙ্গে সব চুক্তি প্রকাশ্যে এনে অসম চুক্তি বাতিল করে বাংলাদেশের সাথে সমানে সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, প্রতিদিনই আমাদের কোনো না কোনো সীমন্তে আমাদের দেশের নাগরিকদের ওপর গুলি চালাচ্ছে ভারতের সীমান্তরক্ষীরা। এতোটা আগ্রসনের পরেও বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার এই হত্যাকাণ্ডকে জায়েজ করেছে। এখন আর ফ্যাসিস্ট সরকার নাই। অতএব, গত সরকারের নতজানু পররাষ্ট্র নীতিকে ছুড়ে ফেলে দিতে হবে।
জবি শাখা ছাত্রফ্রন্টের আহবায়ক ইভান তাহসিব বলেন, আজকে ফেলানী হত্যার ১৪ বছর পার হলে এখনো এর বিচার দেখতে পাইনি। এই বিচারহীনতা প্রমাণ করে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কী রকম। ভারতের হিন্দুত্ববাদী বীজিপি সরকারের ইন্ধনে ভারতীয় মিডিয়াগুলো প্রচার করছ বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে যেসব অসম চুক্তি আছে তা বাতিল করতে হবে। এ ছাড়া ফেলানী হত্যাসহ সীমান্তে যেসব হত্যা হয়ছে তার বিচার আমরা চাই।
উল্লেখ্য, ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর রামখানা অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে নির্মম হত্যার শিকার হন কিশোরী ফেলানী। দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে ছিলো তার মরদেহ।
বিডি প্রতিদিন/আশিক