আজকাল সৌন্দর্য জগতে একটি শব্দ- প্রায়ই শোনা যায়- ‘ক্লিন বিউটি’। আর এখানে মূলত যেসব প্রসাধনী নন-টক্সিক অর্থাৎ ব্যবহারে ত্বকের কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই, সেগুলোই এ ‘ক্লিন বিউটি’র অন্তর্গত।
জেনে রাখা ভালো- ক্ষেত্রে দুটো বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ : নন টক্সিক উপাদান আর স্বচ্ছ লেভেল। এখন অনেক ক্রেতা ঝুঁকছেন প্ল্যান্ট-বেসড প্রোডাক্টের দিকে। তা সে স্কিন কেয়ার হোক বা হেয়ার কেয়ার কিংবা মেকআপ, পরিবেশবান্ধব উপাদানে আগ্রহ বাড়ছে সবার। আর তার ফলেই বিশ্বজুড়ে জোরালো হচ্ছে ‘ক্লিন বিউটি মুভমেন্ট’। তবে শুধুই যে অর্গানিক বা ন্যাচারাল প্রোডাক্ট হলেই তা নন-টক্সিক হবে, এমনটা নয়। ন্যাচারাল প্রোডাক্ট বলেও আজকাল অনেক অসাধু ব্যবসায়ী তাতে যোগ করছেন কৃত্রিম রাসায়নিক। তাই প্রোডাক্ট বেছে নেওয়ার সময়ে প্রাকৃতিক নির্যাস আর কৃত্রিম কেমিক্যালের অনুপাতটা দেখে নেবেন।
যেমন- সিলিকন বেসড হেয়ার মাস্কের লেবেলে যদি লেখা থাকে যে, সেটি সালফেট-ফ্রি, তাহলেও নিশ্চিন্ত হওয়ার উপায় নেই। কারণ, হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট সাধারণত সালফেট-মুক্তই হয়, সমস্যা মূলত সিলিকনে! মিথাইল, প্রোপাইল, বুটাইল বা ইমিড্যাজোলাইডিন ইউরিয়ার মতো উপাদান এড়িয়ে চলাই ভালো। এ ছাড়া পেট্রোলিয়াম প্রোডাক্ট যেমন : প্যারাফিন, মিনারেল অয়েল বা সিন্থেটিক ফ্র্যাগরেন্সও এড়িয়ে চলতে হবে। অ্যানিম্যাল প্রোডাক্ট, সিসাও টক্সিক-পূর্ণ। হয়তো এগুলো ব্যবহারের পরপরই কোনো খারাপ প্রভাব বুঝতে পারবেন না, কিন্তু দীর্ঘকালীন ব্যবহারে ত্বকের ক্ষতি হয়। যে কোনো প্রোডাক্টের সুগন্ধ যদি অতিরিক্ত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে হয়তো তাতে কেমিক্যাল প্রিজারভেটিভ রয়েছে!
প্রতিদিনের বিউটি রেজিম যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই জরুরি হলো এসব প্রোডাক্টে কী কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে সেটাও! ফেশিয়ালে শুধু আপওয়ার্ড স্ট্রোকেই যে পরম শান্তি তা নয়, কোনো কোনো প্রোডাক্ট ব্যবহার হচ্ছে ম্যাসাজের জন্য, সেটিও স্ট্রেস-রিলিফে দায়ী। অনেক প্রোডাক্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকে। টুথপেস্ট, ফেসওয়াশ, স্ক্রাব, নেলপেন্ট, শেভিং ক্রিম বা অন্যান্য পার্সোনাল কেয়ার প্রোডাক্টে ছোট ছোট বিডস থাকে নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন? কিছু কিছু ক্ষেত্রে মাইক্রোবিডস আদতে মাইক্রোপ্লাস্টিক। যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই সতর্ক হতে হবে ক্রেতাদেরই। প্রোডাক্টে পলিইথাইলিন বিডস থাকলে তা ব্যবহার না করাই ভালো।