‘হেয়ার কেয়ার’- যাকে আমরা সৌন্দর্য রুটিনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ বলেই মনে করি। ডার্মাটোলজিস্টরাও আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেন- ঘন এবং লম্বা চুলের রহস্য লুকিয়ে আছে কেবল একটি সুস্থ এবং সতেজ স্ক্যাল্পে। সম্প্রতি স্কিনকেয়ারে কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েশনের প্রবণতা জনপ্রিয় হলেও হেয়ারকেয়ারও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। কারণ মাথার স্ক্যাল্পও তো ত্বকের অংশ, তাই না? তবে এরও ত্বকের মতো দরকার যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ। একজন বিশেষজ্ঞ এ বিষয়ে কথা বলেছেন।
তিনি ভারতের ড. শ্রীলেখা, কো-ফাউন্ডার ও হেড-দ্য প্রিজার্ভ ক্লিনিকের কসমেটোলজিস্ট এবং ট্রাইকোলজিস্ট। তিনি বলেন, স্ক্যাল্প এক্সফোলিয়েশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি জমে থাকা ময়লা, অতিরিক্ত সিবাম এবং কেরাটিনসহ কেমিক্যাল জাতীয় পণ্যগুলোর জমাটবদ্ধতা দূর করতে সাহায্য করে। ফলে স্ক্যাল্প পরিষ্কার এবং স্বাস্থ্যকর থাকে; যা সুস্থ চুল গজানোর ভিত্তি তৈরি করে। তার মতে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই চুল পড়ার প্রধান কারণ হলো স্ক্যাল্পের দুর্বল স্বাস্থ্য এবং স্ক্যাল্প সম্পর্কিত অন্যান্য সমস্যা।
ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েটর ও কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটরের মধ্যে পার্থক্য
ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েটর সাধারণত অ্যাপ্রিকটের বীজ, ডালিমের বীজ বা অন্যান্য উপাদান থাকে। যা স্ক্যাল্পে ঘর্ষণ তৈরি করে এবং মৃত ত্বক কোষ দূর করে। এগুলোর কার্যকারিতা পেতে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ, স্ক্রাবিং প্রয়োজন। তবে এটি শুকনো ও সংবেদনশীল স্ক্যাল্পের জন্য উপযুক্ত নয়। অন্যদিকে কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটর ল্যাকটিক অ্যাসিড, গ্লাইকোলিক অ্যাসিড বা স্যালিসিলিক অ্যাসিডের মতো উপাদানে তৈরি। যা স্ক্যাল্পে লাগালে ১০-১৫ মিনিট রেখে তারপর ধুয়ে ফেলা যায়। এতে অবশ্য কোনো শারীরিক ঘর্ষণের প্রয়োজন নেই। ড. শ্রীলেখা বলেন, ‘অ্যাসিডিক পিলিং এজেন্ট, প্রাকৃতিক পেপারমিন্ট, রোজমেরি এবং ফলের অ্যাসিডের নির্যাস সমৃদ্ধ স্ক্যাল্প এক্সফোলিয়েটর অতিরিক্ত সিবাম, কেরাটিন এবং পণ্যের জমাটবদ্ধতা দূর করতে খুবই কার্যকর।’ তার মতে, যারা ফ্লেকি এবং প্রদাহজনিত স্ক্যাল্প সমস্যায় ভুগছেন তারা তাদের হেয়ার কেয়ার রুটিনে সম্ভব হলে কেটোকোনাজোল এবং জিঙ্ক পিরিথিয়ন সমৃদ্ধ শ্যাম্পু অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।
ড. শ্রীলেখা আরও বলেন, ‘ শুকনো স্ক্যাল্পে এক্সফোলিয়েশন করবেন না। এর আগে স্ক্যাল্প ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে করে নিন। ক্রমানুসারে এক্সফোলিয়েশন, শ্যাম্পু এবং তারপর কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।’ শুরুতে এক সপ্তাহে একবার বা প্রতি ১৫ দিনে একবার এক্সফোলিয়েট করুন এবং ধীরে ধীরে এটি সপ্তাহে দুবার করতে পারেন। তবে যদি স্ক্যাল্পে ইনফেকশন, রিংওয়ার্ম, খোলা ক্ষত বা উকুন থাকে, তাহলে এক্সফোলিয়েশন এড়িয়ে চলুন।
তথ্যসূত্র : দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস