আমাদের শরীরের ঘাম হওয়া মূলত একটি স্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়া। শুধু তাই নয়, এটি শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ঘামের মাধ্যমে শরীরের অতিরিক্ত তাপ বের হয়ে যায়, যা বিপজ্জনক ‘ওভারহিটিং’-এর কারণ হতে পারে। তবে এই প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর ঘাম সম্পর্কে বলতে গেলে- একটি অস্বস্তিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও সঙ্গে আসে, যা হলো- দুর্গন্ধ এবং ভেজাভাব। ডিওডোরেন্ট ও অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট মূলত এই সমস্যাগুলোর সমাধান দেয়। তবে এটি কীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে সেটাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট না ডিওডোরেন্ট, কোনটা ব্যবহার করবেন?
প্রথমে এদের কার্যপ্রণালি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। ডিওডোরেন্ট মূলত ঘামের দুর্গন্ধ ঢেকে রাখে। আর অন্যদিকে অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ঘাম কমানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। বায়ারসডর্ফ-এর ইনোভেশন ম্যানেজার হেবা সাক্কা এটি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘সাধারণভাবে, ডিওডোরেন্টের সুগন্ধি উপাদানগুলো ঘামের গন্ধ ঢেকে রাখে ও এর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এজেন্টগুলো ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি দমন করে। একইভাবে এটি ঘামের দুর্গন্ধের কারণ নির্মূল করে; যা মূলত ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ঘাম পচে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে।’ অন্যদিকে অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট সরাসরি ঘামের বিরুদ্ধে কাজ করে। সাক্কা বলেন, ‘নাম থেকেই বোঝা যায়- ‘অ্যান্টি’ অর্থ ‘বিরুদ্ধ’ এবং ‘পার্সপায়ার’ অর্থ ‘ঘাম’। অর্থাৎ এগুলো আন্ডারআর্মের ভেজাভাব এবং ঘামের দাগের বিরুদ্ধে কাজ করে।’
অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ব্যবহার করার সেরা সময়
হেবা সাক্কার মতে, অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ব্যবহার করার সঠিক সময় হলো শরীরের জন্য বিশ্রামের দীর্ঘ সময় শুরুর আগে যাতে এর শক্তিশালী ফর্মুলাটি দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব তৈরি করার জন্য যথেষ্ট সময় পায়। এর অর্থ হলো এই পণ্য রাতে ঘুমানোর আগে ব্যবহার করা উচিত। যদিও এটি যৌক্তিক যে, ঘুমের সময় রাতে ঘাম গ্রন্থি কম সক্রিয় থাকে এবং ঘাম-নিরোধক উপাদানগুলো ভালোভাবে শোষিত হতে পারে। গোসলের পরপরই এটি ব্যবহার করাও ভালো। সাক্কা বলেন, ‘অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট পরিষ্কার, শুকনো ত্বকে ব্যবহার করাই ভালো। এটি সক্রিয় উপাদানগুলোকে রাতভর কার্যকরভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।’ তবে একটি বিষয় মাথায় রাখা উচিত, ‘সবেমাত্র শেভ করা ত্বকে এটি ব্যবহার করবেন না; এটি আন্ডারআর্মের ত্বককে উত্তেজিত করতে পারে।’ সাক্কা আরও বলেন, ‘সকালে শাওয়ার করা কোনো সমস্যা নয় এবং এটি সুরক্ষাকে প্রভাবিত করে না। ঘাম-নিরোধক সক্রিয় উপাদানগুলো ইতোমধ্যেই রাতের মধ্যে শোষিত হয় এবং তা স্থায়ী থাকে।’
ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করার সেরা সময়
ডিওডোরেন্ট সকালে ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো মূলত সুগন্ধি উপাদানের ওপর ভিত্তি করে এবং অ্যান্টিপার্সপিরেন্টের মতো কাজ করে না, তাই বিশ্রামের সময় প্রয়োজন হয় না।
এসব তথ্যই বাতলে দেবে, আপনার কোন পণ্যটি ব্যবহার করা উচিত। যদি ঘামের গন্ধ প্রতিরোধ যথেষ্ট হয়, তাহলে একটি ডিওডোরেন্ট বেছে নিন। তবে যদি সামনে চাপযুক্ত পরিস্থিতি, তীব্র গরম, বা বড় ধরনের ওয়ার্কআউট থাকে, তাহলে অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ব্যবহার করাই সঠিক হবে।
তথ্যসূত্র : স্টাইলক্রেজ