গাজীপুরে মশার কামড়ে অতিষ্ঠ নগরবাসী। গাজীপুর সিটি করপোরেশন কর্তৃক মশা নিধনে ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় দিনদিন বেড়েই চলেছে মশার উপদ্রব। প্রতি বছর মশা নিধনে লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও নেই কার্যকর ভূমিকা। দোকানপাট, অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ সর্বত্র এখন মশার রাজত্ব। মশার কামড়ে অনেকেই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছেন বিভিন্ন হাসপাতালে। আবার অনেকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। গাজীপুর দেশের সর্ববৃহৎ অভিভাবকহীন সিটি করপোরেশনের বেহাল দশায় জনদুর্ভোগের কমতি নেই। সিটির ৫৭টি ওয়ার্ডে মশক নিধনের জন্য উন্নত প্রযুক্তির শতাধিক ফগার মেশিনসহ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘ভেহিকেল মাউন্টেইন’ ফগার মেশিন রয়েছে। অথচ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অবহেলার কারণে এগুলো ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে সর্বত্র এখন মশার রাজত্ব। নগরীর টঙ্গী শিলমুন, মরকুন, আরিচপুর, টঙ্গীবাজার, আউচপাড়া, দত্তপাড়া, এরশাদনগর, গাজীপুরা, মিরের বাজার, পূবাইল, বড়বাড়ী, বোর্ডবাজার, বাসন, জয়দেবপুর, কাশিমপুর, কোনাবাড়ীসহ সব জায়গাতেই মশার উপদ্রব বেড়েছে। বিকাল থেকে শুরু হয় মশার উৎপাত। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেই মশার উৎপাত তীব্র হয়। এলাকার ড্রেন, পুকুর, ডোবা, নালা-নর্দমার কচুরিপানা ও ময়লা পরিষ্কার না করায় সেগুলো এখন মশা উৎপাদনের খামারে পরিণত হয়েছে।
অন্য বছরের তুলনায় এবার নগরীতে মশার উপদ্রব বেশি। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে কিউলেক্স মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ নগরবাসী। ঘরে-বাইরে বাসা কিংবা অফিসসহ সব জায়গায় মশা। টঙ্গী টিঅ্যান্ডটি এলাকার কলেজ শিক্ষার্থী আলেয়া আক্তার বলেন, মশার যন্ত্রণায় দিন-রাত অসহনীয় অবস্থায় রয়েছি। দিনের বেলাও মশার উপদ্রব থাকে, বিকেলে তা বেড়ে যায় বহুগুণ। পড়াশোনা করতে বসে ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, ৫৭টি ওয়ার্ডে মশক নিধনের ব্যবস্থা রয়েছে। যেখানে প্রয়োজন সেখানেই ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। তবে ড্রেন নালার প্রজনন কেন্দ্রগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে টঙ্গীর শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আফজালুর রহমান বলেন, এ হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে প্রতিদিন ২২ থেকে ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি থাকেন।
অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থা, যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, জলাবদ্ধতা, মানুষের অসচেতনতায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। সিটি করপোরেশন টঙ্গী জোনের আঞ্চলিক কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ফগার মেশিনের ওষুধ নাই, এর জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। তবে পানিতে মিশিয়ে যে ওষুধ ছিটানো হয় তা বিভিন্ন নালা-নর্দমায় ছিটানো হচ্ছে।