বর্তমানে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ইলন মাস্কের স্টারলিংক। তবে চীনের রাষ্ট্রীয় সমর্থিত কোম্পানি স্পেসসেইল ও জেফ বেজোসের প্রজেক্ট কুইপার ক্রমেই শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে। স্টারলিংকের আধিপত্য বিস্তারের পথে এদের উপস্থিতি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
স্পেসসেইল ২০২৩ সালে ব্রাজিলের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং বর্তমানে ৩০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে। সম্প্রতি, তারা কাজাখস্তানে সেবা শুরু করেছে। একইভাবে, ব্রাজিলের সরকার প্রজেক্ট কুইপার এবং কানাডার টেলেস্যাট এর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
২০২০ সাল থেকে স্টারলিংক পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে (এলইও) স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে আসছে এবং এটির স্যাটেলাইটগুলো দূরবর্তী এলাকায় দ্রুত ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করতে সক্ষম। বিশেষত সমুদ্রযাত্রা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে এর ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, চীনের স্পেসসেইল এবং অন্যান্য উদ্যোগের কারণে স্টারলিংক এখন সংকটে পড়েছে।
চীনের করপোরেট নথি এবং একাডেমিক গবেষণা থেকে জানা যায়, স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের বাজারে স্টারলিংকের আধিপত্য চীনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। চীন গত বছর রেকর্ড ২৬৩টি এলইও স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে এবং চলতি বছরে আরও ৬৪৮টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করেছে। স্পেসসেইল এর সঙ্গে চীন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল এবং কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশে তাদের সেবা বিস্তৃত করতে চায়।
চীনের মহাকাশ প্রযুক্তির বিকাশ পশ্চিমা বিশ্বে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষত, চীনের মহাকাশ কর্মসূচি তাদের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ-এর অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা চীনের ভূরাজনৈতিক আধিপত্য বৃদ্ধির একটি কৌশল বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।
স্পেসসেইল এর লক্ষ্য হচ্ছে দূরবর্তী এলাকায় এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করা। স্টারলিংকের দ্রুত বিস্তার এবং ইউক্রেনে এর ব্যবহার চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চীন তার জাতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য সামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে স্টারলিংকের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে।
এদিকে, চীন সস্তা স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক এবং কম লেটেন্সি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করছে। চীনের ইঞ্জিনিয়ারিং জার্নাল-এ সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, চীন স্টারলিংকের স্যাটেলাইট কনস্টেলেশন ট্র্যাকিং ও পর্যবেক্ষণের জন্য উন্নত সরঞ্জাম তৈরি করছে।
সূত্র: রয়টার্স
বিডি প্রতিদিন/আশিক