নাটকীয়তায় ঠাসা লড়াইয়ে জিতে উয়েফা নেশন্স লিগের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল পর্তুগাল। লিসবনে রবিবার (২৩ মার্চ) রাতে ডেনমার্কের বিপক্ষে শেষ আটের ফিরতি লেগের ম্যাচটি ৫-২ গোলে জিতে, দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৩ অগ্রগামিতায় পরের ধাপে পা রাখল প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়নরা। প্রথম লেগে প্রতিপক্ষের মাঠে ১-০ গোলে হেরেছিল তারা।
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে পর্তুগাল খেলবে জার্মানির বিপক্ষে। ম্যাচ শুরু হতেই ঘুরে দাঁড়ানোর উপলক্ষ পেয়েছিল পর্তুগাল। ডি-বক্সে রোনালদোকে পেছন থেকে ডিফেন্ডার প্যাট্রিক ডগু ধাক্কা দিলে পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে ভাবতে হয়নি রেফারিকে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুটবলের রেকর্ড গোলদাতার দুর্বল শট ঝাঁপিয়ে আটকান কাসপের স্মাইকেল।
সপ্তদশ মিনিটে আবারও গোল করার দারুণ সুযোগ পান রোনালদো, নুনো মেন্দেসের ক্রস দূরের পোস্টে পেয়ে জোরাল হেডও করেন তিনি; তবে দুই হাত উঁচিয়ে রুখে দেন স্মাইকেল। শুরুর চাপ সামলে একটু একটু করে পাল্টা আক্রমণে মনোযোগী হওয়া ডেনমার্ক ২৪তম মিনিটে লক্ষ্যে প্রথম শট নিতে পারে। তিন দিন আগের জয়ের নায়ক গাসমুস হয়লুনের শট ঠেকাতে অবশ্য তেমন বেগ পেতে হয়নি দিয়োগো কস্তাকে।
প্রতিপক্ষের ভুলে ৩৮তম মিনিটে পর্তুগিজ শিবিরে স্বস্তি ফেরে। কর্নারে উড়ে আসা বল হেড করতে লাফিয়ে ওঠেন রোনালদো, যদিও তিনি নাগাল পাননি; কিন্তু তার পাশেই ডিফেন্ডার ইওয়াখিম আন্ডেরসেন হেডে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে পাঠিয়ে দেন নিজেদের জালে। বিরতির আগের শেষ আক্রমণে কাছ থেকে হেডে জালে বল পাঠান রোনালদো, ক্ষণিকের জন্য তার মুখে খেলে যায় শুরুর ভুল শুধরে নেওয়ার স্বস্তি। তবে, এর আগমুহূর্তের এক ঘটনায় ডেনিশদের পক্ষে ফাউলের বাঁশি বাজান রেফারি, মেলেনি গোল।
৫৬তম মিনিটে দারুণ এক গোলে পুনরায় চালকের আসনে বসে ডেনমার্ক। ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের ক্রস পেয়ে চমৎকার হেডে দূরের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট ডিফেন্ডার গাসমুস ক্রিস্টেনসেন। প্রথমার্ধের চেয়ে আরও বেশি সময় পজেশন ধরে রেখে একের পর এক আক্রমণ উঠতে থাকে পর্তুগাল, কিন্তু শেষটা ভালো হচ্ছিল না তাদের। অবশেষে ৭২তম মিনিটে দলের মুখে হাসি ফোটান রোনালদো।
ব্রুনো ফের্নান্দেসের দূর থেকে জোরাল শট পোস্টে বাধা পেয়ে গোলরক্ষকের হাতে লেগে দূরে সরে যায়। তড়িৎ বলের কাছে গিয়ে দুরূহ কোণ থেকে দুর্দান্ত শটে ম্যাচের স্কোরলাইন ২-১ করেন রোনালদো। জাতীয় দলের হয়ে তার গোল হলো ১৩৬টি।
তবে চার মিনিটের মধ্যে তাদের সেই স্বস্তি কেড়ে নেন এরিকসেন। ছয় গজ বক্সের মাঝ বরাবর বল বাড়ান দগু, কস্তা ঝাঁপিয়ে বলের নাগাল পাননি, ফাঁকায় বল পেয়ে অনায়াসে ফাঁকা জালে পাঠান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মিডফিল্ডার। কিছুক্ষণ বাদে পরপর দুই মিনিটে জোরাল দুইটি শট নেন রোনালদো; কিন্তু স্মাইকেলের বাধা এড়াতে পারেননি তিনি।
আক্রমণের ধার বাড়াতে ৮১তম মিনিটে ডিফেন্ডার দিয়োগো দালোতকে তুলে ফরোয়ার্ড ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাওকে মাঠে নামান পর্তুগাল কোচ। এবং মাঠে নামার পাঁচ মিনিটের মধ্যে দারুণ গোলে দলকে আশায় রাখেন স্পোর্তিংয়ের এই ফরোয়ার্ড। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে রোনালদোকে তুলে নেন কোচ, বদলি নামান গনসালো রামোসকে।
অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরু হতেই আবারও দলকে উল্লাসে ভাসান ত্রিনকাও। এবার বক্সের ডান দিক থেকে গোলটি করেন তিনি। এই গোলেই দুই লেগ মিলিয়ে প্রথমবার এগিয়ে যায় পর্তুগাল। ১১৩তম মিনিটে নিশ্চিত সুযোগ পান ফের্নান্দেস। ফাঁকায় বল পেয়েছিলেন তিনি, সামনে একমাত্র বাধা গোলরক্ষক। কিন্তু ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ডারের জোরাল শট দুর্দান্ত সেভ করে আশা বাঁচিয়ে রাখেন স্মাইকেল।
দুই মিনিট পর আর পারেননি তিনি। রোনালদোর বদলি নামা রামোসের গোলে বড় ব্যবধানে জিতেই এগিয়ে যায় পর্তুগাল। দুই লেগে চমৎকার ফুটবল উপহার দিয়েও একরাশ হতাশা নিয়ে ফেরে ডেনমার্ক।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ