রাজশাহীর পবা উপজেলা পরিষদ চত্বরে ঢুকলেই পুকুরপাড়। সেই পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে চোখে পড়বে একটি পাঠাগার। বেদিতে দেয়াল তুলে করা হয়েছে বই রাখার স্থান। পুকুরপাড়ে বসে, গাছের সুশীতল ছায়ায় বসে, যে কেউ ডুব দিতে পারবেন বইয়ের রাজ্যে। পাঠাগারটির নাম আলোর উঠান। কাচের পাল্লা টেনে যে কেউ সেখানে বই নিয়ে পড়তে পারবেন। বই পড়া শেষে আবার সযত্নে রেখে দিতে হবে। নিবন্ধিত পাঠকরা বই বাড়িও নিতে পারবেন। ব্যতিক্রমী পাঠাগারটি চালু করেছেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন। দুপুরে পাঠাগারের পাশে গোলঘরে বসে বই পড়ছিল পবার নওহাটা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া তাসনিমের হাতে হুমায়ূন আহমেদের ‘মাতাল হাওয়া’। সপ্তম শ্রেণির সাফিয়ার হাতে হুমায়ূন আহমেদের ‘নির্বাচিত ভূতের গল্প’। নবম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী রুফাইদা ফেরদৌসের হাতে দেখা গেল সৈয়দ শামসুল হকের ‘নির্বাচিত ১০০ কবিতা’। অষ্টম শ্রেণির পুষ্পিতা পূর্ণার মনোযোগও বইয়ের পাতায়। রুফাইদা ফেরদৌস বলল, দুই দিন আগে তারা খবর পেয়েছে, স্কুলের কাছেই এমন একটি পাঠাগার করা হয়েছে। তাই তারা কয়েকজন এসেছে পাঠাগারটি দেখতে। আসার পরে তারা নিজেরাই পাঠাগার থেকে বই নিয়ে পড়ছে। এই পাঠাগারের পরিবেশ তাদের অনেক আকর্ষণীয় লাগছে। শিশু সাহিত্যিক হাসনাত আমজাদ জানান, ‘মাঠের ছবি ঘাটের ছবি’ ও ‘যাই হারিয়ে ছেলেবেলায়’ নিজের লেখা বই দুটি উপহার দিয়েছেন এই পাঠাগারে। তিনি বললেন, ‘আমরা যখন ছাত্র ছিলাম তখন আমাদের বিনোদনের প্রধান মাধ্যম ছিল বই। প্রচুর বই পড়তাম আমরা। বিনোদন ও জ্ঞান অর্জন দুই দিকেই লাভবান হতাম। এখন সময় বদলেছে। বই পড়ার দিকে আগ্রহ অনেক কম এখনকার ছেলেমেয়েদের। সেদিক থেকে চিন্তা করলে এ সময়ে আলোর উঠান চমৎকার এক উদ্যোগ।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, এখন সবাই ভার্চুয়াল মাধ্যমেই ডুবে থাকছেন। অফিস থেকে বাসায় যাতায়াতের সময় লক্ষ্য করেন, উপজেলা পরিষদে সেবা নিতে আসা মানুষকে কোনো কারণে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হলে এখানে-ওখানে বসে তারা মোবাইল নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। তাই তাদের সময়টাকে তাৎপর্যপূর্ণ এবং আনন্দময় করে তুলতে ও বিভিন্ন সময়ে পরিষদে আসা শিক্ষার্থীদের বই পড়ায় উৎসাহী করে তুলতে ছোট্ট এই পাঠাগারটি গড়ে তুলেছেন তিনি। তিনি জানান, তার কার্যালয় থেকে একটি ফরম নিয়ে পূরণ করে নিবন্ধিত পাঠক হতে পারবেন যে কেউ। তারা পাঠাগার থেকে বই বাড়িও নিয়ে যেতে পারবেন। যারা নিবন্ধিত পাঠক নন, তাদের পাঠাগারের পাশেই গোলঘরে বই পড়ে আবার এখানে রেখে দিতে হবে। এই পাঠাগারের পাঠকদের বিশেষত শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে যারা বেশি সংখ্যক বই পড়ে বুক রিভিউ জমা দেবে তাদের উৎসাহিত করতে পুরস্কৃত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
শিরোনাম
- শনিবার পর্যন্ত গরমের দাপট চলতে পারে
- টিকফার মাধ্যমে অবস্থান তুলে ধরে শুল্ক কমানোর আলোচনা করতে হবে
- সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরল গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ শিশু মুসা
- ব্যাংককে খলিল-ডোভাল আলাপচারিতা
- গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেফতার
- যৌথ অভিযানে এক সপ্তাহে ৩৪১ অপরাধী গ্রেফতার
- ভোলায় দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ২৫
- বিগত দিনে মানুষ ভোট দিতে পারে নাই : ধর্ম উপদেষ্টা
- ১১ বছরেও মিলল না সন্ধান, এমএইচ৩৭০ নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই
- যশোরে বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারালো বাবা-মেয়ে, আহত ৩
- ট্রাম্পের শুল্কারোপ: ১০০ বছরে বিশ্ব বাণিজ্যে বড় পরিবর্তন
- গাজায় দেড় বছরে প্রায় ৪০ হাজার শিশু এতিম হয়েছে
- ব্যাংককে ড. ইউনূস-নরেন্দ্র মোদি বৈঠক শুক্রবার
- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে শুল্ক ইস্যুর সমাধান করা হবে : প্রধান উপদেষ্টা
- সাতক্ষীরায় প্লাবিত এলাকায় নৌবাহিনীর জরুরি ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা
- শৈশবে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, নৃত্যগুরুর হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন এই অভিনেত্রী
- রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের যুবক নিহত
- লিবিয়ার জিম্মি দশা থেকে দেশে ফিরলেন লোকমান
- সাতক্ষীরায় বাঁধ ভাঙনে দুর্যোগ, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে নৌবাহিনী
- মার্কিন কূটনীতিকদের জন্য চীনাদের সঙ্গে প্রেমে নিষেধাজ্ঞা জারি যুক্তরাষ্ট্রের
আলোর উঠান
কাজী শাহেদ, রাজশাহী
প্রিন্ট ভার্সন

পুকুরপাড়ে গাছের সুশীতল ছায়ায় বসে, যে কেউ ডুব দিতে পারবেন বইয়ের রাজ্যে। পাঠাগারটির নাম আলোর উঠান। কাচের পাল্লা টেনে যে কেউ সেখানে বই নিয়ে পড়তে পারেন। বই পড়া শেষে আবার সযত্নে রেখে দিতে হবে। নিবন্ধিত পাঠকরা বই বাড়িও নিতে পারেন। ব্যতিক্রমী পাঠাগারটি চালু করেছেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন...
এই বিভাগের আরও খবর
সর্বশেষ খবর

ভারতকে রুখে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে সুখবর পেল হামজারা, শীর্ষে মেসির আর্জেন্টিনা
১৩ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারে পরোয়ানা: আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা হাঙ্গেরির
১১ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম