আবদুল গাফফার উমরা মিয়া, বয়স ৭০ পেরিয়েছে। এলাকায় তিনি পরিচিত প্রকৃতিবন্ধু হিসেবে। এর বাইরেও রয়েছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জিনিসপত্র সংগ্রহের নেশা। নিজ বসতঘরের একটি কক্ষে গড়ে তুলেছেন দুর্লভ সামগ্রীর সংগ্রহশালা। এখানে আছে দেশি-বিদেশি প্রায় হাজার দেড়েক জিনিসপত্র। এ ছাড়াও প্রতিনিয়ত যোগ হওয়া মূল্যবান জিনিসপত্রে সমৃদ্ধ হচ্ছে এটি। নতুন প্রজন্মকে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী জিনিসপত্রের সঙ্গে পরিচয়ের জন্য সংগ্রহশালাটি গড়ে তোলেন তিনি।
উমরা মিয়ার বাড়ি বিশ্বনাথ উপজেলার সদর ইউনিয়নের তাঁতিকোনা গ্রামে। সরেজমিনে দেখা যায়, বসতঘরের বারান্দাসংলগ্ন একটি কক্ষকে তিনি সাজিয়েছেন দুর্লভ জিনিসপত্রে। দেয়াল ও মেঝেতে শোভা পাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ও ব্যতিক্রমী সামগ্রী। পুরো কক্ষই পরিপাটি করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে দেশি-বিদেশি প্রাচীন নানা সামগ্রী দিয়ে। এ যেন পরিণত হয়েছে দুর্লভ জিনিসপত্রের জাদুঘরে। সংগ্রহশালায় রয়েছে ১৯০টি দেশের টাকা (নোট ও কয়েন), ভারতবর্ষের মহাত্মা গান্ধীর চিঠি, জাহাজে ব্যবহৃত কম্পাস, প্রাচীন প্রবাল, ২০০ বছর আগের কাঠের তসবি, ব্রিটিশ আমলের গির্জার কাচের ঘণ্টা, গয়নার বক্স, পানদানি, কফদানি, ১৭৪০ সালের স্কটিশ কাচের একাধিক বড় বোতল, বাদশাহি ল্যাম্প, চিঠি প্রেরণের কনটেইনার, গরু ও হরিণের বড় বড় শিং, হুক্কা, থালাবাটি, কাঠের খড়ম (পাদুকা), পিতল ও মাটির তৈরি তৈজসপত্র, পুরনো ক্যামেরা, টেলিফোন সেট, রেডিও, ঘড়ি, তালা, একতারা, কাঠের হরেক রকমের জীবজন্তুর আকৃতি (বক, কুমির, সাপ), অদ্ভুত আকৃতির কাঠের চেয়ার-টেবিলসহ হাজার দেড়েক জিনিসপত্র। উমরা মিয়া বলেন, ‘প্রায় ষাট বছরের অধিক সময় ধরে তিলে তিলে সংগ্রহ করা দুর্লভ জিনিসপত্র দিয়ে এ সংগ্রহশালা সাজিয়েছি। অনেকে আবার নিজ উদ্যোগে অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র আমার কাছে দিয়েছেন। এখানে অনেক দুর্লভ জিনিস রয়েছে, যা বর্তমান প্রজন্মের জন্য বিস্ময়ের। তারা অতীতের হারিয়ে যাওয়া অনেক কিছু দেখে তার পরিচয় জানতে পারছে।’ বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায় বলেন, ‘গ্রামীণ অনেক ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে। নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরতে এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।’