নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় তালাবদ্ধ ঘর থেকে ভ্যানচালক হাবিবুর রহমানের (২১) লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এক নারীসহ অপহরণকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মোহাম্মদ হাসিনুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতভর ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন পটুয়াখালীর মাদারবুনিয়ার কবির ওরফে সগির হোসেন (৩৮), মুন্সিগঞ্জের হাতিমারার মজিদ আলী সৈয়ালের মেয়ে রেহেনা বেগম (২৫), নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার চর ইসলামপুরের আরিফ (২৫), মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের সিদ্দিক (৫২) ও পটুয়াখালীর হাজীখালা এলাকার নুরুজ্জামান (৩৫)।
ভ্যানচালক হাবিবুর রহমান হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন প্রসঙ্গে পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার দম্পত্তি কবির ওরফে সগির হোসেন ও রেহেনা বেগম বিভিন্ন স্থানে ঘরভাড়া নিয়ে মোবাইল ফোনে যুবক-পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক করে বাসায় ডেকে এনে মুক্তিপণ আদায় করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় নিহত হাবিবুরের সহযোগী ও গ্রেপ্তার কবিরের চাচাতো ভাই নুরুজ্জামানের মাধ্যমে নিহতের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শারীরিক মেলামেশার প্রলোভন দেখিয়ে বাসায় ডেকে আনেন। পরে মুক্তিপণ আদায়ে নিহতের পরিবারের কাছে টাকা দাবি করে হাবিবুরকে নির্যাতন করে। একপর্যায়ে হাবিবুর চিৎকার করলে অপর আসামিদের সহায়তায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। সেই সঙ্গে ঘরে লাশ ফেলে তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যায় আসামিরা।
গত ২৯ জানুয়ারি ফতুল্লার পঞ্চবটি শীষমহল আমতলা এলাকার স্বপন সরকারের ভাড়াটিয়া বাসা থেকে একটি বিকৃত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওইদিন রাতেই নিহত হাবিবুরের বাবা মো. আজিজুল হক ছেলের লাশ শনাক্ত করে ফতুল্লা থানায় একটি মামলা করেন। তার আগে ২৫ জানুয়ারি নিহতের বাবা বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি জিডি করেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, গত ২৪ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে হাবিবুর দাপা পোস্ট অফিস রোডের ভাড়া বাসা থেকে বের হয়। পরে রাত ১০টার দিকে অপহরণকারীরা ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তাকে কল দেয়। অন্যথায় তার ছেলেকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে অপহরণকারীরা মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়। পরে ২৯ জানুয়ারি তার লাশ উদ্ধার করা হয়।