তুচ্ছ ঘটনায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে তিন ঘণ্টা ধরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের আটজন আহত হন। আহদের মধ্যে চারজনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা জানান, শুক্রবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ক্যাম্পাসে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। দুই পক্ষের মধ্যে গতকাল দুপুর পর্যন্ত উত্তেজনা ছিল। বিকালে উভয়পক্ষ যশোর প্রেস ক্লাবে আলাদা সংবাদ সম্মেলন করে তাদের নিজ নিজ অবস্থান সাংবাদিকদের অবহিত করেন। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোর জেলা কমিটির আহ্বায়ক রাশেদ খান উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে রাশেদ খান উভয় পক্ষকে একসঙ্গে বসিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করেন। সন্ধ্যায় তিনি জানান, দুই পক্ষের মধ্যে মীমাংসা হয়ে গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে যবিপ্রবির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাদেকা শাহানী উর্মী বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনের একটি চায়ের দোকানে চা পান করছিলেন তারা। এ সময় সিএসই ডিপার্টমেন্টের দ্বিতীয় বর্ষের কিছু শিক্ষার্থী তার গায়ে ঢলে পড়ার চেষ্টা করে। এর প্রতিবাদ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিত া হয়। একপর্যায়ে সিএসই ডিপার্টমেন্টের ছেলে সরি বললে বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়ে যায়। কিন্তু রাত ৯টার দিকে সিএসই ডিপার্টমেন্টের ১৫-১৬ জন শিক্ষার্থী পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের হাবিব আহমেদ শানের ওপর হামলা করে। এর পর দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের মধ্যে এখনো স্বৈরাচারের সুবিধাভোগীরা রয়েছেন। তাদের মদতেই ক্যাম্পাসে এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে উর্মীর সঙ্গে তার সহপাঠীরাও উপস্থিত ছিলেন।
পরে সিএসই ডিপার্টমেন্টের জসিম উদ্দিন, রাকিব হাসান সিহাবসহ বেশ কয়েকজন পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে শুক্রবারের ঘটনার জন্য নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, তারা আগে হামলার শিকার হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তাদের লোকজনই বেশি।
বৈষ্যম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোরের আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, যবিপ্রবির ঘটনাটি দুঃখজনক। উভয় পক্ষেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন। তাদের সবাইকে নিয়ে আমরা বসেছি। উভয় পক্ষের মধ্যে মীমাংসা হয়ে গেছে।
এদিকে যবিপ্রবির প্রক্টর আমজাদ হোসেন জানান, শুক্রবারের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ডিনস কমিটির আহ্বায়ককে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গতকাল এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাম্পাসের মধ্যে সব ধরনের মিছিল, মিটিং, সভা, সমাবেশ ও গণজমায়েত না করার জন্য সবাইকে নির্দেশ দিয়েছে।