লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় পৃথক দুই স্থানে গত ১২ দিনের মধ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ তিনবার লোহার বেড়া ও বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন করে। প্রতিবাদে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা কঠোর অবস্থান নিয়ে আছেন। সতর্ক রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। গতকাল সকালে সীমান্তে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন। এর পর ৫১ বিজিবির পক্ষ থেকে পর পর তিনবার পতাকা বৈঠকের জন্য বিএসএফকে আহ্বান করলেও তারা সাড়া দেয়নি।
দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য গোলাম রব্বানী বলেন, শূন্যরেখা থেকে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে না নিলে আমরা আন্দোলন গড়ে তুলব। আমরা জনগণ বিজিবির সঙ্গে আছি। বিএসএফের যে কোনো অপতৎপরতা রুখে দিতে আমরা পাহারা দিচ্ছি।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা বাধা দেন। বিজিবির বাধা উপেক্ষা করে বিএসএফ গত শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সীমান্তের প্রায় অর্ধ কিলোমিটারের মধ্যে বিএসএফ ৩০ থেকে ৩৫ জন নির্মাণশ্রমিককে দিয়ে লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে তৈরি খুঁটির মধ্যে প্রায় ৪ ফুট উচু কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করে। এমন পরিস্থিতিতে সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং তাদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।
এর আগে ৩১ ডিসেম্বর দহগ্রাম ইউনিয়নের ৮/৫১-এস মেইন পিলারের কাছে আনুমানিক ৬০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে কাঁটাতারের বেড়া এবং লোহার খুঁটি দিয়ে লাইট পোস্ট স্থাপনের কাজ শুরু করে বিএসএফ। পরে বিজিবির বাধায় পিছু হটে।
৭ জানুয়ারি মধ্যরাতে পাটগ্রাম উপজেলার পাটগ্রাম ইউনিয়নে সীমান্তের শূন্যরেখার ৫০ গজ অভ্যন্তরে বিএসএফ সদস্যরা সে দেশের নির্মাণ শ্রমিকদের নিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও বৈদ্যুতিক যন্ত্র স্থাপন করেন।
লালমনিরহাটের ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল শাহ মো. শাকিল আলম বলেন, পুরো সীমান্তে বিএসএফের অপতৎপরতা রুখে দিতে আমরা সতর্ক রয়েছি।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রকিব হায়দার বলেন, সীমান্তে বিএসএফ যাতে কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে সেজন্য বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।