খুলনা বিভাগীয় এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মো. আবু তৈয়ব। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া প্রায় ৬৯ বছরের পত্রিকা বিক্রি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের। ১৯৫৬ সালে তার বাবা কাজেম আলী খুলনা নগরীর সদর থানার মোড়ে এজেন্ট হিসেবে ব্যবসা শুরু করেন। এরপর খানজাহান আলী রোডের ফেরিঘাটে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। বাবার মৃত্যুর পর আবু তৈয়বের ছোটভাই আবু সালেহ এজেন্সির ব্যবসা টিকিয়ে রাখেন। ১৯৯৮ সালে আবু সালেহ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে কিছুকাল বন্ধ থাকে ব্যবসা। পরে ২০১৬ সালে আবু তৈয়ব পুনরায় ব্যবসা চালু করেন। বর্তমানে তিনি নগরীর প্রাণকেন্দ্র পিকচার প্যালেস মোড়ে একুশে নিউজ কর্নার নামে পত্রিকা বিক্রির এজেন্সি পরিচালনা করছেন। প্রচার সংখ্যায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের শীর্ষস্থান ও ছাপা পত্রিকার ভবিষ্যৎ নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিনের।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : এখনো প্রচার সংখ্যায় শীর্ষে বাংলাদেশ প্রতিদিন। কী কারণে পত্রিকাটি পাঠক আস্থা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করেন?
আবু তৈয়ব : খুলনায় বাংলাদেশ প্রতিদিন যা বিক্রি হয়, অন্যান্য সব জাতীয় পত্রিকা মিলেও তা হয় না। আমি নিজেই প্রতিদিন সবার আগে বাংলাদেশ প্রতিদিন পড়ি। এখানে বিভিন্ন রকমের নিউজ থাকে। প্রত্যেকটা নিউজের বস্তুনিষ্ঠতা আছে। যে কারণে একবার যারা পড়েন তারা আর অন্য কোনো পত্রিকার দিকে যেতে চান না। পত্রিকাটির গ্রহণযোগ্যতা এতটাই যে, তাদের কোনো নিউজের সংশোধনী বা প্রতিবাদ ছাপা হতে দেখা যায় না। পাঠকরা বলে এটা কোন পত্রিকা লিখেছে? বাংলাদেশ প্রতিদিন হলে ভরসা পাওয়া যায়। আরেকটা জিনিস দেখেছি, বাংলাদেশ প্রতিদিন তরুণরা, যুবকরা আবার বৃদ্ধরাও পড়েন। এর সব ধরনের পাঠক রয়েছে। এটা আমার বিচিত্র অভিজ্ঞতা। অবশ্যই এটা ভালো দিক। যে কারণে পত্রিকাটির শীর্ষস্থান ধরা আছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : কোন ধরনের নিউজ পাঠক বেশি পড়েন?
আবু তৈয়ব : রাজনৈতিক নিউজ, সেই ঘটনার বিশ্লেষণ, সম্পাদকীয়, প্রযুক্তিগত নিউজ বেশি পড়তে দেখেছি। সম্পাদকীয় বা দিবসকেন্দ্রিক আইটেমগুলো পাঠককে আকৃষ্ট করে। যেমন- অজানা তথ্য, প্রযুক্তিগত নিউজ, বিনোদন, হেলথ কর্নার, ক্যারিয়ার এসবের আলাদা পাঠক আছে। প্রতিটি নিউজের গ্রহণযোগ্যতা আছে। সম্পাদকীয় পাতার বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা আছে, পাঠক আছে। মানুষ যা চায়, মানুষের মনের কথাই যেন সম্পাদকীয়তে থাকে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : কী ধরনের নিউজ থাকলে আরও পাঠক জনপ্রিয়তা বাড়বে।
আবু তৈয়ব : রাজনৈতিক মতামতভিত্তিক নিউজ থাকলে ভালো হয়। নতুন প্রজন্মের জন্য উদ্ভাবন বা কর্মসংস্থানের দিক-নির্দেশনা গাইডলাইন থাকলে পাঠক বাড়বে। এই পত্রিকার সব নিউজের পরিসর কম। অন্যান্য পত্রিকার ঢাউস সাইজের নিউজ দেখলে পাঠক পড়তে চায় না। অল্পের ভিতরে মূল খবরটা মানুষ জানতে চায়। বাংলাদেশ প্রতিদিন এ ধারাটা চালু করেছে। এটা পত্রিকাটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : ছাপা কাগজের পাঠকের সংখ্যা কমছে, সে ক্ষেত্রে ছাপা কাগজের ভবিষ্যৎ কী?
আবু তৈয়ব : দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ পত্রিকা না কিনে টাকা বাঁচাতে চায়। আর যেহেতু এখন ইন্টারনেটের যুগ।
শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বজুড়ে প্রিন্ট মিডিয়ার গতি মন্থর হয়ে গেছে। তবে প্রিন্ট পত্রিকা কখনই বিলুপ্ত হবে না। আমার মনে হয় যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে পত্রিকাগুলোতে ডিজিটাল বা প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ বাড়াতে হবে। ইউটিউবে অনেক ভুয়া নিউজ থাকে। ভিউ বাড়ানোর জন্য আকর্ষণীয় হেডিং দিয়ে ভুয়া নিউজ দেওয়া হয়। এতে পাঠক বিভ্রান্ত হন। প্রিন্ট মিডিয়া এক্ষেত্রে দায়িত্বশীল বলেই নির্ভরযোগ্য। তাই এটা ধরে রাখতে হবে।