এখন পবিত্র রমজান মাস। তাই প্রত্যেক মুমিন মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে তারাবির নামাজ আদায় করার চেষ্টা করেন। তারাবির প্রতি চার রাকাত পর একটি বিশেষ দোয়া পড়াকে জরুরি মনে করেন। কিন্তু আসলেই এ কাজটি জরুরি কি না এবং হাদিস দ্বারা প্রমাণিত আরো কোনো ভালো কাজ আছে কি না—সে বিষয়ে জানার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।
তারাবি নামাজ মূলত আরামের নামাজ। তারাবি ‘তারবিহাতুন’-এর বহুবচন। তারবিহাতুন শব্দের অর্থই হলো আরাম করা, বিশ্রাম করা। এই নামাজের একটি বিশেষ নিয়ম হলো, এই নামাজে চার রাকাত পর পর চার রাকাত পরিমাণ সময় বসে আরাম করার বিধান রয়েছে।
এ সময় আমাদের দেশের মুসল্লিরা একটি দোয়া পাঠ করাকে জরুরি মনে করেন। দোয়াটি হলো ‘সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা জিল ইজ্জাতি ওয়াল আজমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়া-ই ওয়াল জাবারুতি। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়া লা ইয়ামুত আবাদান আবাদ; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালায়িকাতি ওয়ার রূহ।’
অথচ গবেষকদের মতে, তারাবির নামাজের চার রাকাত পর পর এবং ২০ রাকাত শেষে বিতরের পূর্বে কিছু সময় বিরতি দেওয়া মুস্তাহাব।
এই বিরতির সময় কী করতে হবে শরিয়ত তা নির্ধারণ করে দেয়নি। তাই ফকিহরা বলেছেন, এ সময় মুসল্লিরা যেমন তাসবিহ-তাহলিল, দোয়া-দরুদ বা যেকোনো জিকিরে কাটাতে পারে, তেমনি কেউ চাইলে নীরবেও বসে থাকতে পারে। আর আমাদের দেশের কোনো কোনো এলাকায় পঠিত তাসবিহটির পূর্ণ পাঠ সহিহ হাদিসে পাওয়া যায় না। আর তারাবির ‘তারবিহা’র (চার রাকাত পর বিশ্রামের) সময় পড়ার বিষয়টি একেবারেই নব আবিষ্কৃত। সাহাবায়ে কিরামের কেউ এ সময় এ ধরনের কোনো তাসবিহ পড়েছেন—এমন প্রমাণও পাওয়া যায় না।
তাই এই তাসবিহকে মুস্তাহাব বা সুন্নত মনে করার সুযোগ নেই এবং এটিকে এ ক্ষেত্রে পড়ার মতো নির্দিষ্ট তাসবিহও মনে করা যাবে না, বিশেষ করে কোনো কোনো এলাকায় যৌথভাবে উচ্চৈঃস্বরে যেভাবে তাসবিহটি পড়া হয় তা পরিহারযোগ্য। তবে তাসবিহর এ দোয়াটি হাদিসে বর্ণিত না হলেও তার অর্থ ঠিক আছে। তাই কেউ এটিকে সুন্নত মনে না করে ব্যক্তিগতভাবে অনুচ্চস্বরে পড়লে তাকে নিষেধ করারও প্রয়োজন নেই।
তবে আমরা বিতরের নামাজের পর নবীজি (সা.)-এর পঠিতব্য একটি দোয়ার আমল করতে পারি, যা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বিতরের নামাজে ‘সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ‘লা’ দ্বিতীয় রাকাতে ‘কুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন’ এবং তৃতীয় রাকাতে ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ পাঠ করতেন। আর শুধু শেষ রাকাতেই সালাম ফিরাতেন অর্থাত্ সালামের পর তিনবার ‘সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস’ বলতেন। (নাসায়ি, হাদিস : ১৭০১)
দোয়াটির অর্থ হলো, পূতঃপবিত্র রাজাধিরাজ আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি।
উল্লেখ্য, হাদিসে বিতরের নামাজে নবীজি (সা.)-এর পঠিত কয়েকটি সুরার কথা উল্লেখ রয়েছে, এগুলো দিয়ে মাঝে মাঝে বিতর পড়া যেতে পারে, কিন্তু সব সময় এগুলো দিয়েই পড়াকে জরুরি মনে করা বা ইমাম সাহেবদের গিয়ে চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়।
বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন