বগুড়ায় দুই মোটর শ্রমিক নেতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করার ঘটনার প্রতিবাদে তিনটি নারিকেল ব্যবসায়ীর দোকান লুটপাট, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে তা নিয়ন্ত্রণ করে। পরে অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিভিয়ে ফেলেন।
বুধবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে এসব ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রায় ৭ ঘণ্টা বগুড়া থেকে সকল রুটের যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে দুপুরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়।
জানা যায়, মঙ্গলবার বিকালে বগুড়া শহরের রেলওয়ে স্টেশন রোডের স্টেশনের পাশে সিএনজি চালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড করা নিয়ে স্থানীয় নারিকেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সিএনজি চালকদের বিরোধ শুরু হয়। বিরোধ থামাতে গিয়ে বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের দুই নেতাসহ সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রানা ও কার্য নির্বাহী সদস্য হযরত আলীর উপর হামলার ঘটনা ঘটে।
রানার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং হযরতকে বেদম মারপিটের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার ভোর ৪টা থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় শ্রমিকরা। একই দাবিতে সকাল ১০টার সময় বগুড়া শহরের স্টেশন রোডে মোটর শ্রমিকরা সমবেত হতে থাকে। এক পর্যায়ে বিপুল সংখ্যাক শ্রমিকরা হামলাকারী নারিকেল ব্যবসায়ী অভিযুক্ত মানিক ও রতনের ভাড়া নেওয়া তিনটি নারিকেলের দোকানে হামলা করে। এক পর্যায়ে কে বা কারা দোকানে আগুন ধরিয়ে দিলে নারিকেলসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। ঘটনার সময় পাশের মোস্তাফিজার রহমানের ভাড়া নেওয়া তানভির মেশিনারি পার্টস এর দোকানেও ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিভিয়ে ফেলেন এবং সেনা সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শহিদুল ইসলাম জানান, আগুন লাগানোর খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনা স্থলে পৌঁছে দুটি ইউনিট থেকে আগুন নিভানো হয় ২০ মিনিটে। আগুনে আনুমানিক ৪-৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনটি দোকানে আগুন লাগানো হয়।
বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কবির আহম্মেদ মিঠু জানান, পরিবহন ধর্মঘট ডাকার পরে প্রশাসন থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীকে গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে বুধবার বেলা ১২টায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। আমাদের সংগঠনের দুই নেতাকে অন্যায়ভাবে মারপিট করে আহত করা হয়েছে। পরিবহন শ্রমিক দুই নেতাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে যাবে। আমরা চেষ্টা করছি পরিস্থিতি শান্ত করার।
এর আগে শহরের স্টেশন রোডে বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হামিদ মিটুল। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কবির আহম্মেদ মিঠু। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ পরিবহন মালিক সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এরশাদুল বারী এরশাদসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মঈনুদ্দীন জানান, দুই শ্রমিক নেতার ওপর হামলার ঘটনায় আগেই নারিকেলের দোকানি রতনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত মানিকসহ জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/আরাফাত