বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী ও দুইটি আবাসিক হলের নাম পরিবর্তন করে ব্যানার টানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে নাম পরিবর্তন করে ব্যানার টানিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা। দুপুরের পর উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের কাছে স্মারক লিপি দিয়েছে তারা। স্মারকলিপিতে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে নাম পরিবর্তন করার আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল মহানগর কমিটির আহবায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদুল ইসলাম সাহেদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী নাম থেকে “শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত”, আবাসিক বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা নাম পরিবর্তন করার দাবি করেছিলো শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এখনো নাম পরিবর্তন করা হয়নি। তাই শিক্ষার্থীরা নাম পরিবর্তন করে ব্যানার টানিয়েছে।
শিক্ষার্থীরা শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর পরিবর্তে “কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার”, বঙ্গবন্ধুর পরিবর্তে “বিজয় ২৪ হল” এবং শেখ হাসিনা হলের নাম “ কবি সুফিয়া কামাল” লেখা ব্যানার টানিয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, শিক্ষার্থীরা নাম পরিবর্তন করে ব্যানার টানিয়েছে। পরে বিকাল তিনটার দিকে উপাচার্য ও তার কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেছে, ফ্যাসিষ্ট হাসিনা পতনের দীর্ঘ ৬ মাস অতিক্রম হয়েছে। অথচ এখনো ফ্যাসিষ্টদের নামে বিভিন্ন ভবনে আওয়ামী লীগের দোসরদের নাম রয়েছে। বিপ্লবী ছাত্ররা পূর্বেই আওয়ামী দোসরদের নামগুলো ভেঙ্গে ফেলেছিলো। কিন্তু অফিসিয়ালভাবে নামগুলো পরিবর্তন করা হয়নি। আজ (মঙ্গলবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হল ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর নামফলকের ব্যানার টানিয়ে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর পরিবর্তে “কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার”, বঙ্গবন্ধুর পরিবর্তে “বিজয় ২৪ হল” এবং শেখ হাসিনা হলের নাম “ কবি সুফিয়া কামাল” টানিয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গমাতা হলের নাম জুলাই বিপ্লবের ১১ জন নারী শহীদের মধ্যে থেকে (শহীদ নাফিসা হল বা শহীদ রিয়া গোপ হল) নির্ধারন করার আবেদন করা হলো। আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে নামগুলো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অফিসিয়ালি বাস্তবায়নের দাবি করা হয়েছে।
উপ-উপাচার্য বলেন, সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে নাম পরিবর্তন করতে হয়। সিন্ডিকেট সভায় যদি সভাপতি উপাচার্য নাম পরিবর্তনের বিষয়টি এজেন্ডাভুক্ত করেন। তবে আলোচনার মাধ্যমে নাম পরিবর্তনের সিদ্বান্ত হবে। জরুরী কোন বিষয় হলে উপাচার্য সিন্ডিকেট সভা আহবান করে বিষয়টি সমাধান করতে পারেন।
বিডি প্রতিদিন/আশিক