ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত থাকা অবস্থায়ই আমি বসুন্ধরা শুভসংঘের অনেক কাজে জড়িত ছিলাম। সম্প্রতি মাইজবাগ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মা-বাবাকে ডেকে এনে সবার সামনে পা ধুয়ে সম্মান দেখানোর ঘটনাটি ছিল অনুকরণীয়। শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও পারিবারিক শিক্ষা প্রদানের উত্কৃষ্ট উদাহরণ ছিল এটি। সম্প্রতি আমি বদলি হয়ে নান্দাইলে এসেছি।
এখানেও বসুন্ধরা শুভসংঘের একই কর্মতৎপরতা দেখতে পেয়ে আমি খুবই খুশি হয়েছি। এই উপজেলায়ও তাদের পাশে থাকতে পারব ভেবে আমি অভিভূত। যত দূর জেনেছি, দেশের শীর্ষ একটি প্রতিষ্ঠানের আলোচিত সামাজিক সংগঠন বসুন্ধরা শুভসংঘ সারা দেশে বিভিন্ন কার্যক্রম করে যাচ্ছে। অসহায় গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ, বিনা সুদে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান, দরিদ্র পরিবারের অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা নিশ্চিত করতে বৃত্তি প্রদান, গুরুতর রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা ছাড়াও বন্যার্তদের সাহায্য, শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ লক্ষণীয়।
খুঁজে খুঁজে অভাবী মানুষকে খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার কাজটি তারা করে যাচ্ছে অব্যাহতভাবে। দেশের সর্ববৃহৎ হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ‘কুরআনের নূর-পাওয়ার্ড বাই বসুন্ধরা’ আয়োজন করে সারা দেশে তাক লাগিয়ে দিয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি। প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে শিক্ষার আলো পৌঁছায়নি, সেসব এলাকার শিশুদের জন্য ২২টি বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছে তারা। অতিদরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠী এবং নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে বসুন্ধরা গ্রুপের আর্থিক সহায়তায় নানা পদক্ষেপ নিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।
এর মধ্যে বিনা মূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ এবং প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে তারা। কমপক্ষে ৯০ দিন হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ শেষে দেওয়া হয় সেলাই মেশিন। এমন মহতী উদ্যোগের জন্য তাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই। সরকারের সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বসুন্ধরা সব সময়ই জোরালো ভূমিকা রেখে চলছে।
লেখক: উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নান্দাইল, ময়মনসিংহ