দরজায় কড়া নাড়ছে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। এ মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকা সাহিত্যিকদের অন্যরকম আড্ডাখানায় পরিণত হয়। মাসব্যাপী চারদিকে নতুন বই ও লেখকদের সমাগমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।
এরই প্রস্তুতি হিসেবে আজ বুধবার বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মার্লোচত্বরে (মলচত্বর) জমে ওঠে সাহিত্য আড্ডা। তরুণদের সাহিত্য রিভিউ ও কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠানের আমেজকে বাড়িয়ে দেয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহ মো. হাসিবুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মো. আমিনুর রহমান, সাবেক সভাপতি আবু হুরাইরা আতিক, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল মোমিন, আইন সম্পাদক আরিব হাসান শাওন, সদস্য শারমিন, ঋতু, ঈশিতা, প্রিয়া, অনিক, জুয়েল, হানিফ, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান, গভ. কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স শাখার সভাপতি মুসলেমিনা সুলতানা, সদস্য বিপাশা বিথী, মুন্নি, জাকিয়া, আফিয়া, নাবিলা, সঞ্চিতা, রুকাইয়া, তাসলিমা, ফাহমিদা, রাজমিন, লামিয়া, বৃষ্টি, ইডেন মহিলা কলেজ শাখার প্রতিনিধি সাহিদা আক্তার, বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা কলেজ শাখার আশিকুর রহমান, আল-আমিন, হানিফ, এমদাদুল, সজল, জুয়েল প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের বিখ্যাত উপন্যাস 'নূরজাহান' সম্পর্কে আলোচনা করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ অ্যাপ্লাইড কলেজ অব হিউম্যান সায়েন্স শাখার সদস্য লাবণ্য মল্লিক। আকবর আলী খানের 'পরার্থপরতার অর্থনীতি' বই সম্পর্কে আলোচনা করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কোষাধ্যক্ষ আব্দুল মোমিন।
এছাড়াও বসুন্ধরা শুভসংঘ অ্যাপ্লাইড কলেজ অব হিউম্যান সায়েন্স শাখার সদস্য ইসরাত জাহান আবৃত্তি করেন মহাদেব সাহা রচিত 'এক কোটি বছর তোমাকে দেখিনা'। আফিয়া খান সারা আবৃত্তি করেন 'এবার যদি যেতে হয়' নামক কবিতা।
এ সময় কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহ মো. হাসিবুর রহমান বলেন, সাহিত্য মানুষের অন্তরের খোরাক। সাহিত্য আড্ডায় অন্তরের খোরাক পরিপূর্ণ হয়। সাহিত্য জীবনের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তোলে। বসুন্ধরা শুভসংঘ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চায় আগ্রহী করে তুলতে চেষ্টা করে থাকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মো. আমিনুর রহমান বলেন, সাহিত্য মানুষকে কল্পনার জগতে নিয়ে যায়, মানুষের চিন্তা শক্তিকে বৃদ্ধি করতে সাহিত্যের বিকল্প নেই। সাহিত্য মানুষকে নতুনভাবে, পথ দেখায়, বাঁচতে শেখায়। যে দেশের সাহিত্য যত উন্নত, সে দেশের মানুষের চিন্তাশক্তি তত উন্নত। সাহিত্য আড্ডার মাধ্যমে নতুন আবৃত্তিকারের জন্ম হওয়ার সুযোগ থাকে এবং সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ জন্মে, ভালোবাসা তৈরি হয়।
সৃজনশীল এমন আয়োজন নিয়মিত করার ব্যাপারে বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিডি প্রতিদিন/মুসা