এ বছর তিন বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন সালথা উপজেলার এসকেন মাতুব্বর। সরিষার দেশি জাতের চেয়ে উন্নত জাতে ফলন বেশি হয় বলে মনে করেন এ চাষি। গত বছরের তুলনায় এবার তার জমিতে ফলনও হয়েছে বেশি। এবার বাজারেও দাম ভালো মিলবে বলে মনে করছেন চাষীরা।
পিয়াজ উৎপাদনের জেলা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে ফরিদপুরে সরিষার চাষ বড়েছে। চাষিরা জানিয়েছেন, ভোজ্যতেলের বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে সরিষা তেলের কদর বাড়ছে। ফলে তেলের চাহিদাও বেশি। একই সঙ্গে কম খরচে তারা মুনাফাও পাচ্ছেন বেশি। সব মিলিয়ে জেলার কৃষকের মধ্যে সরিষা চাষে আগ্রহ বেড়েই চলছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ৯টি উপজেলায় ১৪ হাজার ৪৬৩ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। যা গত বছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজারেরও বেশী হয়েছে। সরিষা আবাদে কৃষকদের মাঝে সার, সরিষা বীজ দেয়া হয়েছে প্রনোদনা হিসাবে।
জেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বিশেষ করে চরাঞ্চলে এবার ব্যাপক হারে সরিষার আবাদ হয়েছে। হলুদে ছেয়ে গেছে ফসলি জমি। মাঠ গুলোতে পৌষের হিমেল বাতাসে দোল খাচ্ছে ফুল। শীতের শিশির ভেজা সকালে ঘন কুয়াশায় মোড়ানো এসব জমিতে যেন অপরূপ সৌন্দর্যের চাদর বিছানো। কোথাও মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌমাছি, কোথাও পাখির কলকাকলিশোনা যায়। হলদে ফুলে অপার সৌন্দর্য উপভোগের জন্য আসছে মানুষ।
সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের মজিবুর মোল্লা জানান, তিনি এবার প্রথম চরের জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। ফলন ভালোই হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে তিনি সরিষা বিক্রি করে লাভবান হবেন।
সালথা উপজেলার শফিউদ্দিন জানান, গত বছর সরিষা বিক্রি করে ভালো দাম পেয়েছেন তিনি। এবছর সাত বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহাদুজ্জামান জানান, কয়েক বছর ধরে সরিষার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হয়েছেন। তাই ফরিদপুরে দিনকে দিন সরিষার আবাদ বাড়ছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় এখনও পর্যন্ত রোগবালাইয়ের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে সম্পূরক রবিশস্য হিসেবে সরিষা চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হয়েছে। বিনামূল্যে সরিষা বীজ, সার দেওয়া হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/এএ