চীনের বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো এমন ইঁদুর তৈরি করেছেন যা শুধু দুই বাবার জিনগত উপাদান থেকে প্রাপ্ত হয়েছে। এই ইঁদুর সফলভাবে প্রাপ্তবয়স্কও হয়েছে। এই বৈজ্ঞানিক সাফল্য জীববিজ্ঞানের প্রজনন ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। চীনের বিজ্ঞান একাডেমির (CAS) বেইজিংয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ওয়েই লি এবং তার দল এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন। গত দুই দশক আগে বিজ্ঞানীরা দুই মায়ের জিনগত উপাদান থেকে ইঁদুর তৈরি করেছিলেন। তবে দুই বাবার জিন থেকে ইঁদুর তৈরি করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সম্প্রতি, বিজ্ঞানীরা ইমপ্রিন্টিং জিনের সুনির্দিষ্ট জেনেটিক প্রকৌশলের মাধ্যমে এই বাধা অতিক্রম করেছেন। সাধারণত এই জিনগুলো এক পিতামাতার কাছ থেকে সক্রিয় থাকে, অন্যটি নীরব থাকে। কিন্তু স্টেম সেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাহায্যে গবেষকরা এই জিনগুলোর পুনঃপ্রোগ্রামিং করে সফলভাবে দুই বাবার জিনগত উপাদান থেকে ইঁদুর তৈরি করেছেন। গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেছেন, ২০টি ইমপ্রিন্টেড জিন সংশোধনের মাধ্যমে সফলভাবে দুই পিতার জিনগত উপাদান থেকে কার্যকর বায়োপ্যাটার্ন ইঁদুর তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। এই গবেষণা থেকে জানা যায়, ইমপ্রিন্টিং জিনের অস্বাভাবিকতা স্তন্যপায়ী প্রাণীদের একক পিতা-মাতার প্রজননের প্রধান বাধা। গবেষণার সহ-লেখক লুও গুয়ানঝেং বলেন, এই পদ্ধতি শুধু স্টেম সেল এবং ক্লোনিংয়ের উন্নয়নে সহায়ক নয়, বরং পুনর্জন্ম চিকিৎসা ক্ষেত্রেও আশাব্যঞ্জক সম্ভাবনার দিক উন্মোচন করে। যদিও এই সাফল্য যুগান্তকারী, তবে গবেষণায় বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, শুধু ১১.৮% ভ্রƒণ সফলভাবে জন্মগ্রহণ করেছে। জন্ম নেওয়া ইঁদুরগুলোর মধ্যে অনেকেই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই মারা গেছে বা শারীরিক অস্বাভাবিকতায় ভুগেছে। ভবিষ্যতে দলটি এই পদ্ধতির সফলতার হার বাড়ানোর পাশাপাশি ইঁদুর ছাড়া বড় স্তন্যপায়ী প্রাণী, যেমন বানরের ওপর পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা করছে। এটি বৃহত্তর এবং জটিল প্রজাতিতে এই পদ্ধতির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা মূল্যায়নে সহায়ক হবে।