সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ব্যাটারি প্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব এক পরিবর্তন এসেছে, যা বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং গাড়িতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অটোমোবাইল শিল্পের ভস্কওয়াগন এবং নিশান ইতোমধ্যে সলিড-স্টেট ব্যাটারি গাড়িতে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, যেমন: ওয়ানপ্লাস ১৩-এর মতো ফোনে সিলিকন-কার্বাইড উপাদান ব্যবহৃত ব্যাটারি ব্যবহার করছে। ফলে ব্যাটারির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে নতুন এক উদ্ভাবন আরও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠছে। যা শুধু পারফরম্যান্স নয়, স্থায়িত্ব ও শক্তিত্বে বিপ্লব আনতে পারে।
লিথিয়াম-সালফার ব্যাটারি :
অ্যাডভান্স সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞানীরা উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন এমন ব্যাটারি প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন, যার শক্তি ঘনত্ব (Energy Density) লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির তুলনায় আট গুণ বেশি। তবে দেশটির কেরিয়া ইলেকট্রো টেকনোলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিল অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষকরা এক বিশেষ প্রযুক্তি তৈরি করেছেন, যা লিথিয়াম-পলিসালফাইড ব্যাটারির ভেতরের বিক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
এই ব্যাটারির চ্যালেঞ্জ ও সমাধান :
এত দিন বাণিজ্যিকভাবে লিথিয়াম-সালফার ব্যাটারি তৈরি করা ছিল কঠিন। কারণ চার্জ-ডিসচার্জ প্রক্রিয়ার সময় লিথিয়াম-পলিসালফাইড উৎপন্ন হয়, যা ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। লিথিয়াম-সালফার ব্যাটারির এই দুর্বলতার সমাধানে, গবেষকরা ‘সিঙ্গেল-ওয়ালড CNT’ নামে এক বিশেষ উপাদান তৈরি করেছেন, যা ক্যাথোডকে স্থিতিশীল করে এবং সালফারের ক্ষয় রোধ করে। ফলস্বরূপ, তারা একটি পাউচ-টাইপ লিথিয়াম-সালফার ব্যাটারির প্রোটোটাইপ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন, যার ক্ষমতা 1,000mAh, যা সাধারণ স্মার্টফোন ব্যাটারির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ, কিন্তু শক্তি ঘনত্ব অনেক বেশি! এই উদ্ভাবন যদি সফলভাবে উৎপাদন করা যায়, তাহলে এটি ব্যাটারি প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে।