একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের কারণে উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে ভুট্টা, ধান ও গমের মতো প্রধান খাদ্যশস্য উৎপাদন কমে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দূষণের কারণে ৪% থেকে ১৪% খাদ্যশস্য হারিয়ে যাচ্ছে, যা আগামী দিনে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
‘দ্য গার্ডিয়ান’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৪০ সালের মধ্যে এই দূষণের ফলে ৪০০ মিলিয়ন মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে পড়তে পারে। এর আগে ২০২২ সালে বিশ্বের প্রায় ৭০০ মিলিয়ন মানুষ ক্ষুধার্ত ছিল। গবেষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আরও তীব্র হবে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, মাইক্রোপ্লাস্টিকের কারণে ফসল উৎপাদনে যে ক্ষতি হচ্ছে, তা সাম্প্রতিক দশকগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির সমান হতে পারে। বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং ২০৫৮ সালের মধ্যে এটি ১০ বিলিয়নে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে টেকসই খাদ্য উৎপাদনের চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
কীভাবে ক্ষতি করছে মাইক্রোপ্লাস্টিক?
মাইক্রোপ্লাস্টিক মূলত পরিবেশে ফেলা বিপুল পরিমাণ বর্জ্য থেকে তৈরি হয়। এগুলো বিভিন্নভাবে উদ্ভিদের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করে। একদিকে মাটির উর্বরতা নষ্ট করছে, অন্যদিকে বিষাক্ত রাসায়নিক বহন করে নিয়ে আসছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক উদ্ভিদের পাতা ও মাটির স্তরে আটকে গিয়ে সূর্যালোক শোষণ ব্যাহত করছে। এতে সালোকসংশ্লেষণের মাত্রা কমে যাচ্ছে, যা ফসল উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
গবেষকরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান প্লাস্টিক দূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। চীনের নানজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হুয়ান ঝং-এর নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় বলা হয়েছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ এই প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে। গবেষণাটি ‘প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ১৫৭টি গবেষণার ৩,০০০-এর বেশি পর্যবেক্ষণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। গবেষকরা সতর্ক করছেন, দূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামীর পৃথিবীতে খাদ্য সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠবে, যা কোটি কোটি মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলবে।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল