ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি রবিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। এই বিরতির মাধ্যমে গাজায় নেমে এলো স্বস্তি। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।
সোয়া এক বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি সম্পাদনে যে কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতা করেছিল, কাতার তাদের অন্যতম। ‘পক্ষগুলোর মধ্যে হওয়া চুক্তি মোতাবেক রবিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় (বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টায়) গাজা ভূখন্ডে যুদ্ধবিরতি শুরু হবে। আমরা আমাদের ভাইদের সাবধান থাকতে, সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রদর্শন ও সরকারি সূত্রগুলো থেকে নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করতে পরামর্শ দিচ্ছি,’ টুইটে এমনটাই বলেছেন মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি। ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা শুক্রবার ছয় ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক শেষে গভীর রাতে চুক্তিটি অনুমোদন করে। চুক্তি অনুযায়ী, ছয় সপ্তাহের প্রথম ধাপেই হামাস ৩৩ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে, তার বিনিময়ে ইসরায়েলও তাদের জেলে আটক কয়েকশ ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দেবে। এ সময়ের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনীতে গাজার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাও ছাড়তে হবে, আর বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা পাবে বাড়ি ফেরার অনুমতি। এ সময়ে প্রতিদিন শত শত ত্রাণবাহী লরিকে গাজায় ঢোকারও সুযোগ দেবে তেল আবিব। চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনা শুরু হবে প্রথম ধাপের ১৬তম দিনে। এ ধাপেই মুক্তি পাবে পুরুষ ইসরায়েলি সেনারা। তৃতীয় ও শেষ ধাপে হবে গাজার পুনর্গঠন, যা শেষ হতে লাগবে কয়েক বছর। তবে হামাস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি স্থায়ী না হলে এবং ইসরায়েলি বাহিনী গাজা না ছাড়লে তারা প্রথম ধাপের পর আর কোনো জিম্মিকে ছাড়বে না।
চুক্তির অন্যতম মধ্যস্থতাকারী কাতার জানিয়েছে, প্রথম ধাপে যে জিম্মিরা মুক্তি পাচ্ছেন তাদের মধ্যে বেসামরিক নারী, শিশু, নারী সেনা, বয়স্ক ব্যক্তি, অসুস্থ ও আঘাতপ্রাপ্ত বেসামরিকরা রয়েছেন। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতির প্রথম দিন রবিবারই তিন জিম্মির মুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী, পরবর্তী ছয় সপ্তাহে নিয়মিত বিরতিতে এরকম ছোট ছোট দলে বাকিরাও মুক্তি পাবে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের এক হামলায় ১ হাজার ২০০ নিহত ও ২৫১ জনকে জিম্মি করার প্রত্যুত্তরে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠনটিকে নিশ্চিহ্নে সামরিক অভিযানে নামে। এরপর ১৫ মাসের অবিরাম যুদ্ধ গাজার প্রায় ৪৭ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য বলছে। প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া উপত্যকাটির ২৩ লাখ বাসিন্দাকে হতে হয়েছে বাস্তুচ্যুত। নিয়মিত ত্রাণ না পৌঁছানোয় সেখানে খাবার, জ্বালানি, ওষুধ ও আশ্রয়েরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে ৭ অক্টোবর ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৪৬ হাজার ৮৯৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি আহত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৮৩ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শুরুতে, ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মিদের মুক্তির জন্য হামাসের সঙ্গে একটি চুক্তি অনুমোদন করেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে। চুক্তির অধীনে, তিন-পর্যায়ের যুদ্ধবিরতি শুরু হবে। প্রাথমিক ছয় সপ্তাহের একটি পর্যায়ে হামাসের হাতে বন্দি জিম্মিদের সঙ্গে ইসরায়েলের বন্দিদের বিনিময় করা হবে। এ পর্যায়ে ৯৫ জন ইসরায়েলি জিম্মির মধ্যে ৩৩ জনকে মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে। যাদের মধ্যে নারী, শিশু এবং ৫০ বছরের বেশি বয়সি পুরুষ অন্তর্ভুক্ত। আল-জাজিরা