যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ২০ জানুয়ারির মধ্যে যদি হামাস ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি না দেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে নরকের আগুন লেগে যাবে। মঙ্গলবার তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। স্কাই নিউজ অস্ট্রেলিয়া এ খবর জানিয়েছে।
ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ট্রাম্প। সম্মেলনে ট্রাম্পকে জিম্মিদের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়। তার উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি দায়িত্ব (মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে) নেওয়ার মধ্যে যদি তাঁরা (হামাসের হাতে বন্দি মার্কিন নাগরিক) ফিরে না আসেন, তবে পশ্চিম এশিয়ায় ধ্বংসলীলা চলবে, যা হামাসের জন্য তো বটেই, কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না।’ অর্থাৎ, হামাসের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে নামতে পারে মার্কিন বাহিনী। বিভিন্ন দিক থেকে হামাসকে আক্রমণ করা হতে পারে, এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।
হামাসের হাতে আটকে থাকা মার্কিন জিম্মিদের মুক্তি বিষয়ে আলোচনা করতে তাঁর বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভেন চার্লস উইটকফ সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য সফর করে ফিরেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, আলোচনা ইতোমধ্যে বেশ এগিয়ে গেছে।
সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ৩৪ জন জিম্মিকে মুক্তি দিতে চলেছে হামাস। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইসরায়েলের নারী, শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা। তবে সেই সঙ্গে এও জানানো হয়েছে, এ ক্ষেত্রে হামাসের একটি শর্ত রয়েছে। জিম্মিদের সঙ্গে আলোচনা এবং মৃতদের শনাক্ত করতে তাদের এক সপ্তাহ সময় লাগবে। এ সময়ের মধ্যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কাছে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের অনুরোধও করেছে তারা। বহু সংবাদ সংস্থার রিপোর্টে এমন দাবি করা হয়েছে। কিন্তু নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাসের কাছ থেকে মুক্তি পেতে চলা জিম্মিদের তালিকা পাঠানো হয়নি। এ পরিস্থিতিতে বিষয়টিতে সরাসরি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উইটকফ। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আমরা শিগগিরই সফল হব। আমি এ মুহূর্তে কোনো নেতিবাচক কিছু বলতে চাই না, তবে আমি মনে করি প্রেসিডেন্টের মর্যাদা এবং তাঁর দৃঢ় অবস্থানই এ আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছি এবং আমি আশাবাদী যে, ২০ জানুয়ারির মধ্যে আমরা প্রেসিডেন্টের পক্ষে কিছু ভালো খবর নিয়ে আসতে পারব।’ ট্রাম্প হামাসকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এটা হামাসের জন্য ভালো হবে না এবং কারও জন্যই ভালো হবে না। যদি জিম্মিরা ফেরত না আসে, তবে ২০ জানুয়ারির আগেই মধ্যপ্রাচ্যে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়ে যাবে। এএফপি, বিবিসি