মধ্য আটলান্টিক থেকে ধেয়ে আসা ভয়ংকর একটি তুষার ঝড়ের চার দিনব্যাপী তাণ্ডবের রেশ কাটার আগেই যুক্তরাষ্ট্রে আরো বিপজ্জনক আকারে ধেয়ে আসছে শীতকালিন ঝড়। যা আগামী শনিবার পর্যন্ত মধ্য ও দক্ষিণের ২০টিরও অধিক স্টেটে সবচেয়ে বেশী তুষারপাত ঘটাবে বলে মঙ্গলবার রাতে আবহাওয়া দফতরের বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর তাণ্ডব শুরু হবে বুধবার রাত (বাংলাদেশ সময় বৃহস্প্রতিবার সকাল) থেকে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপক প্রভাব দৃশ্যমান হবে এই তাণ্ডবের মধ্যদিয়ে- এমনটা মনে করছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা।
আবহাওয়া দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, নতুন তুষারঝড়ের কবলে পড়ে সেসব এলাকার জনজীবন লন্ডভন্ড হয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে সেগুলো হলো- নর্দার্ন এবং ওয়েষ্টার্ন টেক্সাস, নিউ মেক্সিকো, ওকলাহোমা, ক্যানসাস, কলরাডো, নর্দার্ন লুইজিয়ানা, আরকানসাস, আলাবামা, মিসিসিপি,জর্জিয়া, টেনেসী, কেন্টাকি, ক্যারলিনা এবং মিজৌরি। এসব এলাকায় শুক্রবার পর্যন্ত বেশ কয়েক ইঞ্চি করে তুষারপাতের আশংকা রয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার সাথে সাথে বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটতে পারে। আবারো স্কুল-কলেজ-অফিস বন্ধ হয়ে যেতে পারে। থমকে দাঁড়াতে পারে ব্যবসা-বাণিজ্য। এখাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকা যখন হিমশীতল পরিস্থিতির মধ্যে নিদারুণ একটি সমস্যায় নিপতিত, ঠিক তেমনি সময়ে শিল্প, বাণিজ্য ও আর্থিক কর্মকান্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র লসঅ্যাঞ্জেলেস ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে। বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই দাবানলে ইতোমধ্যেই ১২০০ একরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে বলে মঙ্গলবার জানা গেছে।
এছাড়া আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে বহু বাড়িঘর ও গাড়িও। পরিস্থিতি বিবেচনায় ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ১৩ হাজার ভবন আগুনের হুমকির মুখে রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। মঙ্গলবার জানা গেছে, ১০ একর থেকে শুরু হয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ১২০০ একরের বেশি এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস সিটির ঐ এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। দমকল বাহিনীর চিফ ক্রিস্টিন ক্রাউলি বলেছেন, ৩০ হাজারেরও বেশি লোককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং ১৩ হাজার ভবন আগুনে পুড়ে যাওয়ার হুমকির মধ্যে রয়েছে। দাবানলের ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, প্যাসিফিক প্যালিসেডেস এলাকায় আগুন জ্বলছে এবং বাসিন্দারা আগুন থেকে বাঁচতে তাদের গাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং ঘণ্টায় ৫০ মাইল (৮০ কিলোমিটার) গতির দমকা বাতাস এবং অবিশ্বাস্যভাবে শুষ্ক অবস্থার কারণে আগুন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চল এখন অত্যন্ত শুষ্ক। গত ৮ মাসে মাত্র কোয়ার্টার ইঞ্চি বৃষ্টি হয়েছে। খরায় পুড়ছে কৃষি জমি এবং বনাঞ্চল। এর ফলে দাবানলের মত বিস্তৃত হচ্ছে আগুনের লেলিহান শিখা।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল