দফায় দফায় সময় ও প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি চলছে। তারপরও শেষ হচ্ছে না বিএফডিসি কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ। এবার তৃতীয়বারের মতো ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন করার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে ৪৮ কোটি ৯৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকা প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিএফডিসি কমপ্লেক্স নির্মাণে শুরুতে মেয়াদ ছিল ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু সময়মতো কাজ শেষ না হলে এরপর ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াও আরও দুই বছর ছয় মাস মেয়াদ বৃদ্ধি অর্থাৎ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু এতেও শেষ হয়নি কাজ। এখন আবার ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দুই বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। চলচ্চিত্রকারদের এখন উৎকণ্ঠিত প্রশ্ন- ‘কবে শেষ হবে বিএফডিসি কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ।’
সাত বছর ৯ মাসে বিএফডিসি কমপ্লেক্স প্রকল্পের নির্মাণকাজের বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ৩৫ শতাংশ। এ ছাড়া আর্থিক অগ্রগতি ৩৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ। গত বছরের জুন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৩২ কোটি ৮৬ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৩২২ কোটি ৭৭ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এখন ৪৮ কোটি ৯৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকা বাড়িয়ে করা হচ্ছে ৩৭১ কোটি ৭১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা।
এদিকে ‘বিএফডিসি কমপ্লেক্স’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। প্রস্তাবটি নিয়ে গত ১৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। এ বিষয়ে এ কমপ্লেক্স নির্মাণের সহকারী সমন্বয়ক বিএফডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (প্ল্যান্ট অ্যান্ড মেশিনারিজ) মনিরুজ্জামান খানের কাছে সভার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি।’ ২০২১ সালের মধ্যে এ কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ার জন্য তিনি প্রধানত ২০২০ ও ২০২১ সালের করোনাকালকেই দায়ী করেন। একটি সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তিতেই ত্রুটি ছিল। যে দরে কাজ করার চুক্তি ছিল পরে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় ঠিকাদার ব্যয় সমন্বয়ে দাবি জানান। এতে রাজি না হওয়ায় প্রকল্প ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন ঠিকাদার। এটিও প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হওয়ার অন্যতম কারণ।
প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসেবে প্রস্তাবে বলা হয়েছে- দীর্ঘদিন প্রকল্প পরিচালক পদটি শূন্য থাকায় বারবার প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন করা হয়েছে। ২০২০ ও ২০২১ সালে পুরো দেশ লকডাউনের আওতায় পড়ার ফলে প্রকল্প কাজে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি হয়নি। একটি সিনেপ্লেক্সের মধ্যে তিনটি স্ক্রিনের পরিবর্তে দুটি সিনেপ্লেক্সের মধ্যে পাঁচটি স্ক্রিনসহ ফ্লোর প্ল্যানের ফাংশন পরিবর্তন করা হয়। নতুন ফ্লোর প্ল্যানসহ ভবনের স্থাপত্য নকশা ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পতিত প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে প্রদর্শন করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা দুটি সুইমিং পুলের প্রোভিশন রেখে আর্কিটেকচারাল চুয়িং ও ডিজাইন সংশোধন করা হয়। বর্তমান দুটি সুইমিং পুলের পরিবর্তে একটি সুইমিং পুল নির্মাণ করা হবে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত পিআইসি (প্রজেক্ট বাস্তবায়ন কমিটি) সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাঁচটি স্ক্রিন সংবলিত দুটি সিনেপ্লেক্সের পরিবর্তে তিনটি স্ক্রিন সংবলিত একটি সিনেপ্লেক্স নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে আর্কিটেকচারাল ডিজাইনে ফ্লোর ফাংশনে পরিবর্তন করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজস্ব ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন হওয়া এবং বৈদেশিক মুদ্রার হার বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি যন্ত্রপাতির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। চলচ্চিত্রকারদের প্রত্যাশা আর সময় এবং প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি না করে এবারের নির্ধারিত সময় ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে শেষ হবে স্বপ্নের ‘বিএফডিসি কমপ্লেক্স’-এর নির্মাণকাজ।