চট্টগ্রামে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকসেল কার্যক্রমে চাল না থাকায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ক্রেতারা। রমজান উপলক্ষে ট্রাকসেল থেকে পণ্য সংগ্রহের বিপুল আগ্রহ দেখা গেলেও চাল না পেয়ে অনেকে হতাশ হচ্ছেন। সম্প্রতি সরকারি ভাষ্যে বিদেশ থেকে একাধিক চালানে চাল আমদানির খবর শুনে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ঘাটতি না থাকলে ট্রাকসেলে চাল নেই কেনো?
জানা গেছে, আগের সরকারের সময় ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে টিসিবি পণ্য বিক্রি করলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ট্রাকসেলের মাধ্যমে উন্মুক্তভাবে পণ্য বিক্রি শুরু হয়। এই উদ্যোগকে মধ্য ও নিম্নমধ্যবিত্তরা স্বাগত জানান। ট্রাকসেলের পণ্য কিনতে ঝামেলা কম হওয়ায় অনেকেই এসব পণ্য সংগ্রহে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। কিন্তু কার্যক্রম শুরুর কিছুদিন পর তেল ও চালের সংকট দেখা দেয়। বর্তমানে তেলের সংকট নিরসন হলেও বন্ধ রয়েছে চাল দেওয়ার কার্যক্রম।
টিসিবি সূত্র জানায়, গত ২৪ অক্টোবর থেকে চট্টগ্রাম নগীর ২০টি স্থানে ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু করে সংস্থাটি। তবে গত ৩১ ডিসেম্বর এই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। রমজানকে সামনে রেখে গত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিদিন নগরীর ২০টি পয়েন্টে এই কার্যক্রম চলছে। প্রতিটি পয়েন্টে ২০০ জন করে প্রতিদিন ৪ হাজার গ্রাহক পণ্য কিনতে পারছেন। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই লিটার ভোজ্যতেল, দুই কেজি করে মসুর ডাল ও ছোলা, এক কেজি চিনি ও ৫০০ গ্রাম খেজুর কিনতে পারছেন ৫৮৮ টাকায়।
গত কয়েকদিনে সরেজমিন কয়েকটি স্থান পরিদর্শনে দেখা গেছে, প্রত্যেকটি ট্রাকের পেছনে ২০০ জনের বেশি মানুষ পণ্য সংগ্রহে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। কিন্তু ২০০ জনের বেশি পণ্য না দেওয়ায় অন্যরা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। প্রতিটি পয়েন্টে ১০০ থেকে ৩০০ মানুষ দীর্ঘক্ষণ লাইনে থেকেও পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। আবার যারা পণ্য পাচ্ছেন, তারা চাল না পেয়ে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন।
কয়েকদিন আগে নগরীর আলমাস সিনেমা হল সংলগ্ন এলাকায় ট্রাক সেল কার্যক্রমে পণ্য কিনতে আসা আবদুর রশীদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সরকারের লোকজন বলছে, দেশে চালের সংকট নেই। গত কিছুদিনে একাধিকবার চাল আমদানির খবর শুনেছি। কিন্তু এখানে কেনো চাল নেই। কেনো চাল দেওয়া হচ্ছে না এটার উত্তরও নেই।’
আমেনা বেগম নামের আরেকজন ক্রেতা বলেন, ‘যে পণ্যগুলো দিচ্ছে সেগুলো অবশ্যই প্রয়োজনীয়। কিন্তু এর চেয়েও বেশি দরকার চাল। কারণ রমজান এসে গেছে। কিছু টাকা সাশ্রয়ের জন্য লাইনে দাঁড়াচ্ছি। কিন্তু রমজানে চালটাও খুব দরকার।’
টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রমে যুক্ত বিক্রেতা টিটু মহাজন বলেন, ‘আমরা যেসব পণ্য পাচ্ছি, আর যেটুকু পাচ্ছি সেগুলো বিক্রি করছি। চালের বরাদ্দ না পেলে আমরা কীভাবে বিক্রি করবো।’
জানতে চাইলে টিসিবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের যুগ্ম পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, আগে যেসব চাল সংগ্রহে ছিল সেগুলো বিতরণ হয়ে গেছে। এরপর চালের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত অনুমোদন না পাওয়ায় খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করা যায়নি। তাই ট্রাকসেলে চাল নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ট্রাকসেলের বিক্রেতারা তেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুর টিসিবির কাছ থেকে সরাসরি সংগ্রহ করলেও চাল সংগ্রহ করতে হয় ওএমএস ডিলারদের মাধ্যমে। ওএমএস ডিলাররা চাল সংগ্রহ করেন জেলা খাদ্য অধিদপ্তর থেকে। খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নিয়ে টিসিবি ৩০ টাকা দরে ট্রাকসেলে চাল বিক্রি করতো। এবারের কার্যক্রম শুরুর পর এখন পর্যন্ত চাল সংগ্রহের অনুমোদন পাওয়া যায়নি।
যদিও মঙ্গলবার বিকেলে এ ব্যাপারে সুখবর দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুমাইয়া নাজনীন। তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাদের কাছে পর্যাপ্ত চাল আছে। কিন্তু অনুমোদন না পেলে তো আমরা দিতে পারি না। তবে আজ (মঙ্গলবার) অনুমোদনের একটি কপি হাতে এসেছে। উনাদের (টিসিবি) ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই চাল নিয়ে যেতে হবে। অনেক সময় চাল সংগ্রহ করতে দেরি করেন উনারা।’
বিডি প্রতিদিন/এমআই