চট্টগ্রামে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ বার্ন হাসপাতাল নির্মাণ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় রোগীদের ভোগান্তি ও ডায়াগনস্টিক টেস্টে কমিশন বাণিজ্য বন্ধ এবং হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নসহ ২১ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (চট্টগ্রাম) ও যুব ক্যাব চট্টগ্রাম।
মঙ্গলবার সকালে চমেক হাসপাতাল চত্বরে মানববন্ধন শেষে ক্যাব নেতৃবৃন্দ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিনকে ২১ দফা সম্বলিত স্মারকলিপিটি প্রদান করেন।
ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইনের সভাপতিত্বে ও ক্যাব যুব গ্রুপ আবু হানিফ নোমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বন্দর সুবিধার কারণে গড়ে উঠেছে ইস্পাত কারখানা, সিমেন্ট, জাহাজ ভাঙা শিল্প, পোশাক কারখানা, রাসায়নিক কারখানা, জুতা কারখানা, কনটেইনার ডিপোসহ আমদানি, রপ্তানি ও ট্রেডিং ব্যবসার বহুমাত্রিক হালকা ও ভারী শিল্প কারখানা এবং প্রতিষ্ঠান। এছাড়া শুধুমাত্র চট্টগ্রাম জেলায় প্রায় কোটি মানুষের বসবাস হলেও দেড় দশকেও চট্টগ্রামে পূর্ণাঙ্গ বার্ন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা হয় নাই। ফলে অগ্নি ও বিস্ফোরণজনিত দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার কোনো সুযোগ-সুবিধা চট্টগ্রামে নাই। আগুনে পোড়া, গরম পানিতে ঝলসানো ও বৈদ্যুতিক শকে দগ্ধ রোগী প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য মাত্র ২৬টি বেড আছে। যেখানে মাসে গড়ে ৯০০ থেকে ১০০০ রোগীকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপতুল। চমেক এই অঞ্চলের ৪ কোটি মানুষের একমাত্র রেফারেন্স-টার্সিয়ারি হাসপাতাল হলেও আগুনে পুড়ে যাওয়া বেশিরভাগ রোগীকে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে হয়। তাই চমেক ক্যাম্পাসে ১৫০ শয্যার স্বতন্ত্র বার্ন হাসপাতাল নির্মাণের কাজ সৃষ্ট জটিলতা নিরসন করে দ্রুত শুরু করা সময়ের দাবি।
দাবিগুলোর মধ্যে আছে-হাসপাতালে সার্বক্ষণিক তথ্যকেন্দ্র চালুর পাশাপাশি প্রতিটি গেইটে মানচিত্র স্থাপন, রোগী পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রলি-হুইল চেয়ারের জন্য আয়া-ওয়ার্ড বয়দের টাকার পরিমাণ নির্দিষ্ট করা, হাসপাতালে আসা রোগী ও স্বজনসহ লোকজনের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করা, ওয়ার্ডগুলোতে টয়লেটের সংখ্যা বাড়ানো, টয়লেটগুলো মেরামতের পাশাপাশি নিয়মিত পরিষ্কার করা, ফ্লোর-ওয়ার্ড নিয়মিত পরিষ্কার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরো শক্তিশালী ও তদারকি জোরদার করা, লিফটগুলোর ক্যাপাসিটি বাড়ানো, চিকিৎসক-নার্স-স্টাফদের জন্য পৃথক লিফট স্থাপন, রোগীদের জন্য শয্যা বাড়ানো, প্রয়োজনে পোর্টেবল বেড়ের ব্যবস্থা করা, হাসপাতালকে দালাল মুক্ত করা, আয়া ও ওয়ার্ডবয়দের চাকরি স্থায়ী করা ও তাদের পরিচয়পত্র নিশ্চিত করা, বেশি টাকা দিয়ে বাইরে টেস্ট করানো বন্ধ করা, এমআরআই, সিটি স্ক্যান ও ইকোর মত বড় বড় টেস্টগুলোতে সিরিয়াল পাওয়া সহজ করা, দৈনিক টেস্ট এর পরিমাণ বৃদ্ধি করা, পর্যাপ্ত মেশিন ও রুম ব্যবস্থা করা, মেডিকেল কলেজ এলাকার হাসপাতালের ফার্মেসিগুলোতে ওষুধ প্রশাসনের তদারকি বাড়ানো ও নায্য মূল্যের ফার্মেসির পরিসর বাড়ানো, বিকেলের পর ওয়ার্ডগুলোতে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক-স্টাফের সার্বক্ষণিক নিশ্চিত করা, হাসপাতালে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ করা, পরিচালনা কর্তৃপক্ষের নিয়মিত ও সুষ্ঠু তদারকি করা, দর্শনার্থীদের সময় নির্দিষ্ট করা, যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলা রোধ করা, হাসপাতাল ও এর চারদিকের এলাকায় মশকনিধন কর্মসূচি জোরদার করা, সেবা পেতে ভোগান্তি হলে প্রতিকারের জন্য অভিযোগ জানাতে হটলাইন-হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার চালু করা, দিনের বেলায়ও মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা, আইসিইউর শয্যা বৃদ্ধি।
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত