রেলওয়ের রানিং স্টাফদের দুই দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন কর্মরতরা। ফলে সোমবার রাত ১২টা থেকে সারাদেশে রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। গন্তব্যে যেতে পারছে না যাত্রীরা। এতে যাত্রীদের অন্তহীন দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে অসংখ্য যাত্রী অপেক্ষা করছে-কখন ট্রেন চলবে। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অগ্রিম টিকিট নেওয়ার টাকা ফেরত দিচ্ছে।
অন্যদিকে, রেলের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোর যাত্রী পরিবহন করছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (বিআরটিসি)। যাত্রা বাতিল হওয়া ট্রেনে টিকিট দিয়ে যাত্রীরা বিআরটিসির বাসে যাতায়াত করতে পারছেন।
জানা যায়, মূল বেতনের সঙ্গে রানিং অ্যালাউন্স যোগ করে পেনশন দেওয়া এবং আনুতোষিক সুবিধা দেওয়ার দাবি পূরণ না হওয়ায় গত সোমবার রাত ১২টার পর থেকে কর্মবিরতি পালন করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতি। এতে সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে। রানিং স্টাফদের মধ্যে আছে লোকো মাস্টার, সহকারী লোকো মাস্টার, গার্ড ও টিকেট পরিদর্শক (টিটিই)। রেল পরিচালনায় এই তিন পদে কর্মরতদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী করিম উদ্দিন বলেন, কুমিল্লা যাওয়ার জন্য অগ্রিম টিকিট ক্রয় করি। এখন এসে দেখলাম যাত্রা বাতিল। তবে বিআরটিসির বাসে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এ ব্যবস্থা করে দিয়েছে।
আরেক যাত্রী তাহসিন করিম বলেন, মা বাসে চড়তে পারে না। তাই মাকে নিয়ে নিজের বাড়ি লাকসাম যেতে ট্রেনের টিকিট কাটি। কিন্তু এখন ট্রেন চলছে না। তাই বাধ্য হয়ে বাসে যাই।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান বলেন, রেল চলাচল বন্ধের সময় যাত্রীদের কষ্ট কমাতে বিকল্প হিসাবে বিআরটিসির বাসের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে। আবার যাত্রী চাইলে টিকিট রিফান্ডের সুযোগ আছে। যারা কাউন্টার থেকে টিকিট নিয়েছেন তারা কাউন্টারে টিকিট ফেরত দিয়ে টাকা ফেরত নিতে পারবেন। যারা অনলাইনে টিকিট নিয়েছেন তারা অনলাইনে রিফান্ড রিকোয়েস্ট দিয়ে টাকা ফেরত নিতে পারবেন। যাত্রী ভোগান্তি কমাতে ও ট্রেন চলাচলের বিষয়ে রেলওয়ে কাজ করছে।
বিআরটিসি বাস ডিপোর ম্যানেজার জুলফিকার আলী বলেন, রেল চলাচল বন্ধে যাত্রীদের বিআরটিসির বাসের মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আপাতত রেলের সিডিউল অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুটে বাস দেওয়া হয়। যাত্রীরা ট্রেনের টিকিট দিয়ে আমাদের বাসে যেতে পারবেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে ২০টি বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। দুপুরের মধ্যে পাঁচটি বাস গন্তব্যে ছেড়ে যায়। রেলের সিডিউল অনুযায়ী গাড়িগুলো দিয়ে যাত্রী পরিবহন করবে। বিআরটিসির একটি দ্বিতল বাসে ৭৫ জন এবং একতলা বাসে ৪৫ জন যাত্রী পরিবহন করতে পারে।
জানা যায়, বর্তমানে রেলে যাত্রীবাহী কোচ আছে প্রায় ১ হাজার ৮০০ এর মত। এর মধ্যে ৫০ শতাংশেরই স্বাভাবিক আয়ু শেষ। এই কোচ দিয়ে প্রদিদিন গড়ে চলছে প্রায় ৩০২টি ট্রেন। রেলওয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ লাখ যাত্রী পরিবহন করে। বর্তমানে রেলে জনবল সংকট চরমে। ৪৬ শতাংশ জনবল নিয়ে চলছে রেল। ৫৪ শতাংশ পদ শূন্য।
বিডি প্রতিদিন/এমআই