শুল্কমুক্ত সুবিধায় আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ-সদস্যদের আমদানি করা ২৪টি বিলাসবহুল ল্যান্ড ক্রুজারসহ ৪৪টি গাড়ি নিলামে তুলেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। শুল্কসহ প্রতিটি ল্যান্ড ক্রুজার জিপের সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ কোটি ৬৭ লাখ ৩ হাজার ৮৯৯ টাকা। এই হিসেবে ২৪টি গাড়ির মোট মূল্য ২৩২ কোটি।
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এসব গাড়ি আমদানি হয়েছিল গত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে। ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত হওয়ায় শুল্কমুক্ত সুবিধা নিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যরা। খালাস না নেওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গাড়িগুলো বিক্রির জন্য নিলামে তোলা হয়েছে। এই ২৪টি ল্যান্ড ক্রুজারই ২০২৪ সালে জাপানে তৈরি। এ ছাড়া ২০২১ সালের ২টি ল্যান্ড ক্রুজারও রয়েছে যার একটির মূল্য ১ কোটি ৬২ লাখ, অন্যটির ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ওয়েবসাইটে গত রবিবার নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২৭ জানুয়ারি থেকে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রস্তাবিত মূল্য গ্রহণ করা হবে। ২-৪ ফেব্রুয়ারি নিলামের পণ্য দেখার সুযোগ থাকবে। অনলাইন ক্যাটালগে প্রতিটি গাড়ির ছবি ও মূল্যসহ বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার (নিলাম) মো. সাকিব হোসেন বলেন, দেশের যে কোনো স্থান থেকে যে কেউ অনলাইন নিলামে অংশ নিতে পারবেন। আমদানি করা গাড়ি খালাস নিতে সাবেক সংসদ সদস্যদের দুই দফায় চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এরপরও খালাস না নেওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী আমরা তাদের ২৪টি গাড়ি নিলামে তুলেছি।
তিনি জানান, এই দফায় মোট ১০৩টি গাড়ি নিলামে তোলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৪০টির মতো গাড়ি শুল্ক পরিশোধ করে আমদানিকারকরা নিয়ে গেছেন। আরও ১৫টি ছাড়ের জন্য আবেদন জমা পড়েছে। কয়েকটির কাগজপত্রে কিছু ত্রুটি আছে। বাকি ৪৪টি বিক্রির জন্য নিলাম ডাকা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিলামে জাপানের তৈরি ৫টি টয়োটা হ্যারিয়ার ও ২টি জাপানি টয়োটা র্যাভ-৪ এবং ১টি স্কয়ার মডেলের গাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া আছে চীনের তৈরি হোয়ো ৩৪০ মডেলের ১০টি হেভিডিউটি ডাম্প ট্রাক।
কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, প্রথম নিলামে সংরক্ষিত মূল্যের ৬০ শতাংশ পাওয়া না গেলে দ্বিতীয়বার ডাকা হয়। দ্বিতীয় নিলামে প্রথমবারের চেয়ে বেশি দাম না উঠলে ডাকা হয় তৃতীয় দফা নিলাম। বিক্রি করা পণ্যের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়।
বিডি প্রতিদিন/এমআই