বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের রানিং স্টাফরা দুই দফা দাবি নিয়ে হার্ডলাইনে অবস্থান নিয়েছেন। আগামী ২৭ জানুয়ারির মধ্যে দাবি পূরণ না হলে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য রেল চলাচল না করার ঘোষণাও দিয়েছেন।
এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নানা কর্মসূচি পালন করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন। এ ছাড়া, বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
রানিং স্টাফদের দাবির মধ্যে আছে-পার্ট অফ পে রানিং অ্যালাউন্স যোগ করে পেনশন ও আনুতোষিক প্রদানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের গত ২০২১ সালের ৩ নভেম্বরের পত্রের অসম্মতি প্রত্যাহার এবং নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত রানিং স্টাফদের নিয়োগপত্রের বৈষম্যমূলক ১২ ও ১৩ নম্বর শর্ত বাতিল করে রেলওয়ের প্রচলিত কোড ও বিধি বিধানের আলোকে আদেশ জারি। রানিং স্টাফের মধ্যে আছে-লোকো রানিং স্টাফ, গার্ড ও টিটিই। রেল চলাচলে এসব স্টাফদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে রেলে জনবল সংকট চরমে। ৪৬ শতাংশ জনবল নিয়ে চলছে রেল। ৫৪ শতাংশ পদ শূন্য।
বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান বলেন, রানিং কর্মচারীদের রানিং অ্যালাউন্স, যা মূল বেতনের অংশ, তা যোগ করে পেনশন নির্ধারণের বিধান ১৬০ বছরেরও বেশি সময় যাবত চলমান। এটি বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অর্থ সচিব, অর্থ মন্ত্রী মহোদয়গণ দ্বারা বারবার স্বীকৃত। এখনো আমরা রানিং অ্যালাউন্স যোগ করে পেনশন ও আনুতোষিক পেয়ে আসছি। কিন্তু ভবিষ্যৎ জটিলতা এড়াতে লিখিত আদেশ প্রয়োজন। মীমাংসিত একটি বিষয়কে নিয়ে বারবার জটিলতা সৃষ্টি করা দুরভিসন্ধিমূলক বলে মনে করি।
তিনি বলেন, নতুন রানিং স্টাফদের নিয়োগপত্রের বিধি বহির্ভূত ও বৈষম্যমূলক ১২ ও ১৩ নম্বর শর্ত বাদ দিতে হবে। এই বেআইনি শর্ত দিয়ে ২০২২ সাল থেকে নিয়োগকৃত এবং বিভাগীয় পদোন্নতি প্রাপ্ত রানিং স্টাফদের রানিং অ্যালাউন্স প্রাপ্তিতে বঞ্চিত করা হচ্ছে। যে সকল বিধি বিধানের আলোকে তাদের রানিং স্টাফ হিসেবে কাজ করানো হচ্ছে, সে সকল বিধি-বিধানের আলোকেই পূর্বের রানিং স্টাফদের ন্যায় রানিং অ্যালাউন্স প্রদান করতে হবে। দাবি আদায় না হলে আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতি পালন করব।
বিডি প্রতিদিন/এমআই