বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদের শাসনামলে বাংলাদেশের আলেমরা সবচেয়ে বেশি জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। প্রত্যেক আলেমদের নির্যাতনের পেছনে তাদের চরিত্রহরণ করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করলেও আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন না। এদের ক্ষমা হতে পারে না। আমরা শিক্ষার্থীদের অনেকের জীবনের বিনিময়ে আজ বৈষম্যহীন রাষ্ট্র পেয়েছি।’
মাওলানা মামুনুল হক আরও বলেন, ‘বিগত ১৬ বছর দেশে অনেক অন্যায় জুলুম হয়েছে। কিভাবে মানুষকে গুম করা হয়েছে। মানুষ গুমের শিকার হলে পরিবারে কি ভয়াবহ প্রভাব পড়ে তা পরিবারই জানে। একজন মা ছেলে ফিরে আসবেনা জেনেও প্রতিটা রত নির্ঘুম কাটায়। উপদেষ্টারা আয়নাঘরের দৃশ্য প্রকাশ করেছে। আমরা সেই গুমের রাজ্যে আর কোনোদিন ফিরে যেতে চাই না।’
আজ সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসের বটতলায় খেলাফত মজলিসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রশিক্ষিত জনশক্তি দরকার। ছাত্ররা যদি সম্মিলিত প্রচেষ্টা করে তাহলে তারা কি করতে পারে তারা তা দেখিয়ে দিয়েছে গত ৫ আগস্টে। ছাত্ররা শেখ হাসিনার বিভাজনের রাজনীতিকে বিফল করে তারা একত্রিত থেকেছে। এবার ছাত্ররা বাংলাদেশের মানুষকে সুসংগঠিত করতে পারলে দেশ নতুন আলোর মুখ দেখবে।’
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ইয়াকুব আলী, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক এস এম সুইট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতিসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘একদিনে দেশকে পরিবর্তন করা সম্ভব না। ১৬ বছরে যা করেছে তা পরিবর্তন করা কষ্টসাধ্য। সময় নিয়ে রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা ফ্যাসিবাদি সিস্টেমকে সমূলে উৎখাত করতে হবে।’
বিডি প্রতিদিন/জামশেদ