জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের প্রথম ধাপের কাজ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে জানিয়েছেন দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবনিযুক্ত প্রকল্প পরিচালক (পিডি) লে. কর্নেল ইফতেখার আলম।
সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাকক্ষে 'জবি শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন ও হল নির্মাণ বিষয়ে' আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রকল্প পরিচালক ইফতেখার আলম বলেন, আমাদের বলা হয়েছে প্রথম ধাপের কাজ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে। তবে আমরা এর আগেই শেষ করার চেষ্টা করবো। দ্বিতীয় ধাপের কাজের পরিকল্পনাও চলবে, তবে এর দৃশ্যমান কাজ ২০২৬ সালের পরই শুরু করা সম্ভব হবে।
প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, প্রথম ধাপের কাজের মধ্যে রয়েছে ক্যাম্পাসে বালু ভরাট করা, প্রকৌশল ভবন নির্মাণ এবং একটা বেসক্যাম্প তৈরি করা। যেন দ্বিতীয় ধাপের কাজ দ্রুত শুরু করা যায়। সেই সঙ্গে আমরা পুরো প্রকল্পের কি পরিমাণে অগ্রগতি হয়েছে এ বিষয়েও একটি প্রতিবেদন তৈরি করে মূল কাজে হাত দেবো।
আবাসিক হলের বিষয়ে তিনি বলেন, বাণী ভবন ও হাবিবুর রহমান হলে স্টিলের স্ট্রাকচার নির্মাণ অসম্ভব প্রায়। হল দুইটির স্থান এমন জায়গায় যে এখানে স্টিল স্ট্রাকচারের কাজ চালানোর জন্য যে ক্রেন আনা দরকার সেটা সেখানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। কারণ সেখানে রাস্তাগুলো ১৪ থেকে ২২ ফুটের মধ্যে। এখানে স্টিলের স্ট্রাকচারের পরিবর্তে কংক্রিটের স্থাপনা নির্মাণ বেশি টেকসই হবে। এছাড়া স্টিল স্ট্রাকচার সময়সাপেক্ষ। স্থানীয়দেরও কিছু আপত্তি এসেছে যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
সভায় শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে ঢাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পারভেজ চৌধুরী বলেন, আমরা চেষ্টা করছি আইনগত কাঠামোর মধ্যে কিভাবে ফ্যাসিলিটেট করা যায়। আইনগতভাবে স্থায়ী বা অস্থায়ী কাঠামো করার সুযোগ নাই। স্ট্রাকচারের বিষয়টা আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে। লোকাল কমিউনিটিকে রেসপেক্ট না করলে সাসটেইনেবল হবে না।
শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রইছ উদ্দীন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ২০০৫ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়েছে বলে আমরা বিগত সময়ে নানাভাবে বঞ্চিত হয়েছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে ঢাকা থেকে সরিয়ে অজপাড়াগাঁয়ে পাঠানোর জন্য তারা নতুন ক্যাম্পাস দিয়েছে। কিন্তু আমরা পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই এই ক্যাম্পাস আমাদেরই থাকবে। কেরানীগঞ্জে হবে আমাদের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই দ্বিতীয় ধাপের পরিকল্পনা হবে। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের প্রথম ধাপে একটি ছাত্র হল অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যদি বাণী ভবন ও হাবিবুর রহমান হলের নির্মাণে দেরি হয় তাহলে আমাদের নিজস্ব ৭ একর জমিতে বালু ভরাট করে অস্থায়ীভাবে ছাত্রদের থাকার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করা যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
এসময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমিন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, প্রক্টর, ছাত্রকল্যাণ পরিচালক, হল প্রভোস্টসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা।
বিডি প্রতিদিন/আরাফাত