বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) প্রতিষ্ঠাকালীন নাম ‘রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ পুনর্বহালের দাবি উঠেছে। আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে দাবি মানা না হলে বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মহানগরের সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রহমত আলী এবং শামসুর রহমান সুমন সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে বরা হয়, রংপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল ছিল ‘রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ যা ২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারে আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর নামকরণ করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা নিজের নির্বাচনি ইশতেহারা বাস্তবায়ন ও নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা দাবি করতে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখওয়াত হোসেনের নামটি ব্যবহার করে। যার কোনো যৌক্তিকতা সেসময় ছিল না। বরং বেগম রোকেয়া নামে বিশেষায়িত একটি বিশ্ববিদ্যালয় রংপুরে স্থাপন করা যেত।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০১৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় নামে রংপুরে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ রংপুরবাসী আন্দোলন করে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৮টি অনুষদ এবং ৪৪টি ডিপার্টমেন্ট থাকার কথা থাকলেও তা আজও আলোর মুখ দেখেনি।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও আবাসন, পরিবহন সংকট তীব্র রয়েছে। যে সরকারের নির্দেশে আবু সাঈদের তাজা প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সেই সরকারের কোনো চিহ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে পারে না। নাম পুনর্বহালে আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষর, ভাইস চ্যান্সেলর, শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর স্বারকলিপি প্রদান, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এসব দাবির স্বপক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতকরা ৯০ ভাগ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। তাই আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন নামপুনর্বহাল করা না হলে শাটডাউন কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে।
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত