সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। দ্বিতীয় দিনেও ঢাকা-পাবনা-সিরাজগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী একাডেমিক ভবন-৩ এর সামনে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে মহাসড়ক অবরোধ করে দ্রুত ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আক্ষেপ করে বলেন, সরকার হয় ক্যাম্পাস নির্মাণে দ্রুত ব্যবস্থা করবেন, না হলে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেবেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী নওশিন মাইসা, শান্তা খাতুন, আবু সাইদ, রায়হান উদ্দিন জানান, ২০১৬ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে বিশ্ববিদ্যালয়টি অনুমোদন হয়। ২০১৭ সালে চার স্থানে চারটি ভবন ভাড়া করে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করেন। জমি থাকলেও ৮ বছর পার হলেও স্থায়ী ভবন নির্মাণ করা হয়নি। এতে ক্লাস রুম, সংকট, লাইব্রেরি সংকট ও আবাসন সংকটে ভুগছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আয়েশা খাতুন জানান, ক্লাসরুম সংকটের কারণে দেখা যায় পরীক্ষা চলাকালে আমাদের সময়মতো ক্লাস হয় না। এ কারণে সেশনজট দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থী সামিয়া আকতার জানান, আবাসন সংকট চরমে। বাইরে থাকার বাসা ভাড়া বেশি দিতে হচ্ছে। এ ছাড়াও সেফটি ছাড়া রাতে লাইব্রেরিতে পড়তে যেতে হয়। এতে বখাটেদের দ্বারা নানা রকম ইভটিজিং ও হয়রানির শিকার হতে হয়। ক্যাম্পাস থাকলে এসকল সমস্যা হতো না। তাদের দাবি সরকার বারবার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এবার দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম ও সহকারী প্রক্টর নুসরাত জাহান ছাত্রদের আন্দোলন যৌক্তিক উল্লেখ করে বলেন, ক্যাম্পাস না থাকায় শুধু শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষকরাও নানা সম্যসায় ভুগছেন। ক্লাস রুম, শিক্ষকদের বসার ব্যবস্থা ও জ্ঞান চর্চার স্থান না থাকায় শিক্ষার্থীদের ঠিকমতো জ্ঞানদান করতে পারছে না। এ ছাড়াও খেলাধুলা ও ক্যান্টিন না থাকায় সবারই সমস্যা হচ্ছে।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর এস. এম. হাসান তালুকদার জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২২৫ একর জায়গা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে ১০০ একর জমির উপর যখন-তখন ক্যাম্পাস নির্মাণ করা সম্ভব হয়। প্রথমে ক্যাম্পারের জন্য ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার কমাতে বলায় শেষ পর্যন্ত ৬০০ কোটি টাকার বাজেট দেওয়া হয়েছে। বাজেট দেওয়া যাবে কিনা, তা নিয়ে ২৮ জানুয়ারি বৈঠক হবে। অনুমোদন দিলে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
দীর্ঘ ৮ বছরেও ক্যাম্পাস নির্মাণ না হওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এটি রবীন্দ্রনাথকে অপমান করা এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রতি অবমাননা করা হচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সরকার হয় ক্যাম্পাস নির্মাণে দ্রুত ব্যবস্থা করবে, না হলে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেবে।
বিডি প্রতিদিন/এমআই