ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণিত বিভাগের বিপরীত পাশে ফুটপাতে একটি মেহগনি গাছের মগডালে ঝুলতে থাকা লাশের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম আবু সালেহ (৪৫)। বাড়ি মুন্সিগঞ্জের সদর উপজেলার নগরকসবা গ্রামে। থাকতেন ঢাকার কেরানীগঞ্জে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার সকালে এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ গাছের মগডালে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখেন তারা। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। মরদেহের গায়ে ছিল সবুজ রঙের টিশার্ট ও সাদা রঙের কোট। পরনে নীল রঙের ট্রাউজার। এরপর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে ডাকা হলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গাছ থেকে মরদেহটি নিচে নামাতে সক্ষম হন।
শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শেখ হাদিউজ্জামান জানান, সকাল পৌনে ৯টার দিকে তারা খবর পান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের বিপরীত পাশে ফুটপাতে একটি মেহগনি গাছের চূড়ায় ঝুলছে এক ব্যক্তি। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গিয়ে গাছ থেকে তার মরদেহটি নিচে নামানো হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি ভবঘুরে। থাকতেন ওই এলাকার ফুটপাতেই। মানসিক সমস্যাও ছিল তার। বয়স আনুমানিক ৪৫ এর মতো হবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতের যে কোনো সময় তিনি ওই গাছের চূড়ায় উঠে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। তবে বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, বুধবার বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেন মৃতের ছোট দুই ভাই আবু হায়দার ছোটন ও মোহাম্মদ আলী।
জানা যায়, চার ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় আবু সালেহ বেশ কিছু বছর টেইলার্সে কাজ করতেন। তবে বাজে বন্ধুদের সাথে আড্ডায় পড়ে আনুমানিক ২০ বছর আগে জড়ান নেশায়। গাজা, ইয়াবা থেকে শুরু করে প্যাথেডিন নিতেন বন্ধুদের সাথে মিশে। নেশায় আসক্ত এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেন। এর আগেও বড় গাছে চড়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।
সালেহের ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের সদর উপজেলার নগরকসবা গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুর রব। তবে তারা পরিবার নিয়ে বহুবছর ধরে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ কালীগঞ্জের নয়াবাড়ি এলাকায় থাকেন। আবু সালেহ অবিবাহিত। এলাকাতে একটি টেইলার্সে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। সেখান থেকেই কিছু বাজে বন্ধু-বান্ধবের আড্ডায় পড়ে জড়ান মাদকে। প্রথম প্রথম তাকে সবাই বুঝিয়ে মাদক থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেন। তবে দিন দিন তার আসক্তি বাড়তে থাকে। সবশেষ গত তিন বছর যাবৎ টেইলার্সের কাজ ছেড়ে দেন। বাড়ি থেকেও চলে আসেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাটে থাকা শুরু করেন। মাঝেমধ্যে তিনি বাড়িতে যেতেন। সেখানে দু-একদিন থেকে মা-বাবা, ভাইদের কাছ থেকে কিছু টাকা-পয়সা চেয়ে নিয়ে আবার হুট করেই চলে আসতেন। তার সাথে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হত না। সবশেষ গত ৫ দিন আগেও সালেহ বাড়িতে গিয়েছিল। তখন মায়ের কাছ থেকে ওষুধ কেনার কথা বলে এক হাজার টাকা নিয়ে আসেন। এরপর তার সাথে আর কারো যোগাযোগ হয়নি। সবশেষ বুধবার দুপুরে শাহবাগ থানা পুলিশের মাধ্যমে তার লাশ উদ্ধার হওয়ার খবর শুনতে পান তারা।
আবু সালেহের আরেক ছোট ভাই আবু হায়দার ছোটন জানান, মাদকাসক্ত হওয়ার পর গত ৭-৮ বছর আগে একবার নিজেদের বাড়িতেই আগুন লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় সেই আগুন নেভানো হয়। এরপর গত ৫ বছর আগে একবার কেরানীগঞ্জের ওই এলাকার একটি বড় গাছে উঠে গলায় ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তখন স্থানীয়রা দেখে তাকে গাছ থেকে নিচে নামান।
তিনি বলেন, আবু সালেহ মাঝেমধ্যেই উদ্ভট কথাবার্তা বলতেন। বিশেষ করে যারা মারা গেছেন সেসব মৃত ব্যক্তিরা তাকে ডাকাডাকি করে বলেও মাঝেমধ্যেই বলতেন তাদের।
বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ