পোষ্য কোটা বাতিল, জুলাই আন্দোলনে হত্যাকারীদের বিচারসহ ৯ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও আমরণ অনশন করছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আটজন শিক্ষার্থী। কোটা বাতিলের জন্য বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে, মূল ফটকে তালা দেওয়াসহ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন তারা। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে দুই দফায় আলোচনা করেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে পোষ্য কোটা কমিয়ে এক থেকে দেড় শতাংশ রাখার ব্যাপারে সম্মত হলেও বাতিলের ব্যাপারে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয়নি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
অনশনে বসা ৮ শিক্ষার্থী হলেন-জুলাই আন্দোলনে চোখ হারানো শিক্ষার্থী মো. শুভ হোসেন, সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী রশিদ দিনার, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের তানিম মুশফিক, আইন বিভাগের সাইরিব রহমান সুপ্ত, রাজনীতি বিজ্ঞানের মো. হিমেল খান, আশিকুর রহমান ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সৌরভ সরকার পূর্ণ।
কর্মসূচিতে অনশনরত বাংলা বিভাগের ১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. শুভ হোসেন বলেন, পোষ্য কোটা সম্পূর্ণ একটি অযৌক্তিক কোটা। এ কোটার কারণে মেধাবী শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে। জুলাই আন্দোলনে আহতরা এখনও কাতরাচ্ছে। কিন্তু হত্যাকারীদের কোনো উল্লেখযোগ্য বিচার হয়নি। ৯ দফা দাবিতে আমরা অনশন করছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত, আমরা এ কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি বলেন, শহীদ হৃদয় তরুয়া এবং শহীদ ফরহাদের রক্তের উপর বসে আছে প্রশাসন। তাদের কাছে খুনিদের বিচার চাইতে হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা হত্যা-হামলার সাথে জড়িত, তারা বিভিন্ন বিভাগে পরীক্ষা দিচ্ছে। এসব হামলাকারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ আমরা দেখতে পাইনি। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে ৫৭ জনকে বহিষ্কার করেছে, সেখানে চবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত নেই। চবির সকল শিক্ষার্থী পোষ্য কোটার বিরুদ্ধে থাকার পরেও পোষ্য কোটা এখনো বহাল রয়েছে। আমরা কোনো ধরনের কোটা আর দেখতে চাই না।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের এসব দাবির প্রতি একাত্মতা পোষণ করছি। শিক্ষার্থীরা যে এভাবে অনশন করছে, সেটা আমাদের জন্য ব্যর্থতা। আমরা সবাই মিলে বসে একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারি। যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থান হামলার সাথে জড়িত, সবার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের স্থান মাটিতে নয়, তোমাদের স্থান আমাদের বুকে। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের অনশন ভেঙে আলোচনায় আসার আহ্বান জানান এবং জুলাইয়ে অপরাধীদের বিচারের জন্য এক সপ্তাহ সময়ের আশ্বাস দেন।
বিডি প্রতিদিন/এমআই