মেঠো আবাবিলদের উড়ার ভঙ্গি খুবই আকর্ষণীয়, এরা নানাভাবে পাক খেতে খেতে উড়তে পারে। খুবই চঞ্চল প্রকৃতির। এক জায়গায় স্থির থাকতে পারে না। দ্রুত দিক বদলাতে জুড়ি নেই এদের। দেখতেও সুন্দর। ইতিহাসে এই পাখি নিয়ে একাধিক বর্ননা রয়েছে।
পাখিটির বিষয়ে জানা গেছে, আবাবিল (Swallow) ছোট, দলবদ্ধভাবে বসবাসকারী, পতঙ্গভুক পাখি। এদের খাটো ও চওড়া ঠোঁট ছোট শক্ত লোমে আবৃত। পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র এরা আছে। প্রায় ৯০ প্রজাতির আবাবিল রয়েছে। বাংলাদেশে ৪ প্রজাতির আবাবিল রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি পরিযায়ী ও ১ প্রজাতি দেশি।
মেঠো আবাবিল দেশি প্রজাতির। এদের ডানা লম্বা ও সরু, লেজ দ্বিধাবিভক্ত এবং পা দুর্বল। উড়ন্ত পোকা ধরতে পারদর্শী। পালক চকচকে নীল বা কালো, সাধারণত নিচের চেয়ে উপরের দিক গাঢ় রঙের। একসঙ্গে বাসা বাঁধে খামারের চালাঘরে, দালানের কার্নিশে অথবা কোনো কাঠামোতে। বাসাগুলো বাটি আকৃতির হয়ে থাকে। ৬টি পর্যন্ত ডিম পাড়ে এই পাখিটি। এ পাখিরা ফসলের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ধ্বংস করে। এদের দেহ লম্বায় ১০ থেকে ২৪ সেন্টিমিটার, ওজন ১০ থেকে ৬০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। এদের লেজে সাধারণত ১২টি পালক থাকে।
ইসলাম ধর্মে পবিত্র কুরআনে আবাবিল পাখির উল্লেখ আছে। এক ঝাক আবাবিল পাখির মুখ থেকে ফেলা পাথরের আঘাতে পবিত্র কাবা ধ্বংসের উদ্দেশ্যে আসা ইয়েমেনের রাজা আব্রাহার অভিযান ব্যর্থ হয়। আবাবিল পশ্চিমা বিশ্বের অন্যতম প্রিয় পাখি। আবাবিল পাখিকে সুসংবাদ, আরাম ও আনন্দের বার্তা বলে মনে করা হয়। অনেকে আবাবিলদের আবহাওয়ার পাখি মনে করেন।
ধারণা করা হয় যে, এরা নিচে উড়লে ঠাণ্ডা বায়ু ও বৃষ্টি আসবে, উঁচুতে উড়লে রোদ ও উষ্ণ আবহাওয়া বিরাজ করবে। সমুদ্রের নাবিকদের কাছে অনেককাল ধরেই আবাবিল একটি ভালো প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। আবাবিল দেখা মানে নাবিকদের কাছে তীরের সন্ধান পাওয়া যাবে এমনটা ধারণা করা হয়।
সৌখিন আলোকচিত্রি কবি রানা মাসুদ বলেন, এদের উড্ডয়ন ক্ষমতা অনেক বেশি। এরা এক জায়গায় স্থির থাকতে পারে না।
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত