১২ জানুয়ারি, মঙ্গলবার। ১৯৭১ সালের এই দিনে রাজধানী ঢাকার অদূরে সাভার উপজেলায় ‘জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে বর্তমানের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম আহসান। এর আগে, ১৯৭০ সালের ২০ আগস্ট এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে ৭৫০ একর জায়গা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য তৎকালীন সরকার প্রায় ৫০ একর জমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অধিগ্রহণ করে নেয়। দেশের প্রথম ও একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত ‘জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়’ নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি স্বাধীনতা উত্তর ১৯৭৩ সালে বাদ দেওয়া হয়। ঢাকা শহরের মুঘল আমলের নাম ‘জাহাঙ্গীরনগর’ থেকে এর নামকরণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি তার গৌরবের ৫৪ বছর পার করে ৫৫ বছরে পদার্পণ করতে চলেছে। দীর্ঘ এ পদযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়টি থেকে বেরিয়েছেন দেশবরেণ্য অসংখ্য জ্ঞানীগুণী মানুষ। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তাদের মধ্যে প্রখ্যাত কবি সৈয়দ আলী আহসান, অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলাম, লেখক হুমায়ুন আজাদ, কবি মোহাম্মদ রফিক, আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান, রসায়নবিদ অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির, অধ্যাপক সুনীল কুমার মুখোপাধ্যায়, লেখক হায়াৎ মামুদ, নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, বিজ্ঞানী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন, ড. সৌমিত্র শেখর, অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ প্রমুখ অন্যতম। এ ছাড়া, অভিনেতা হুমায়ূন ফরীদি, শহীদুজ্জামান সেলিম, সুমাইয়া শিমু, জাকিয়া বারী মম, মিম মানতাসা, আফসানা আরা বিন্দু, সজল নূর, ফারুক আহমেদ, দীপংকর দীপন, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুশফিকুর রহিমসহ বহু দেশবরেণ্য ব্যক্তি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রানী
এটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি এক অনন্য লীলাভূমি, যেখানে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর জীবনের সরলতা হাত ধরাধরি করে চলে। দূর থেকে চোখে পড়ে লাল ইটের স্থাপত্য, যা সবুজের মাঝখানে আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ক্যাম্পাসের প্রশস্ত লেকগুলোতে ভেসে থাকে লাল শাপলা, আর শীতকালে অতিথি পাখিদের উড়ন্ত সুরের মাধুর্য যোগ করে এক নতুন সুরভি। সাদা কাশফুলের মাঠে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়, যেন স্বপ্নলোকের কোনো পথে পা বাড়িয়েছি। দিগন্তজোড়া সবুজ আর শান্ত লেকের জলতরঙ্গে প্রতিফলিত সূর্যের আলো এক মায়াবী আবেশ তৈরি করে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে ‘সবুজ স্বর্গ’ নামেও অভিহিত করা হয়।
অন্যতম আকর্ষণ অতিথি পাখি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শীতের আবহটা একটু ব্যতিক্রম। সবুজ গাছপালা ও নয়নাভিরাম লেকসমৃদ্ধ এ ক্যাম্পাসে শীতে দর্শনার্থীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় অনুষঙ্গ হলো অতিথি পাখি। প্রতিবারের মতো এবারো শীতের শুরুতেই জাবির লেকগুলোয় দেখা মিলেছে অতিথি পাখির। তবে এবার অতিথি পাখির সংখ্যা তুলনামূলক কম। জানা গেছে, আবহাওয়াগত কারণে প্রচণ্ড শীত আর খাদ্য সংকটের কবলে পড়ে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে অতিথি পাখি ছুটে আসে বাংলাদেশে। এ ছাড়াও সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, হিমালয় অঞ্চলে শীত ও ভারি তুষারপাতে টিকতে না পেরে পরিযায়ী পাখিরা উষ্ণতার খোঁজে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে চলে আসে। শীতের রেশ কেটে গেলেই বসন্তের সময়টিতে এসব পরিযায়ী পাখি আবারও তাদের চিরচেনা ভূমিতে ফিরে যায়।
পদ্মপুকুর
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক অন্যতম আকর্ষণ হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের জলাশয়গুলোর পদ্মফুল। শরৎ ও হেমন্তকালে গোলাপি পদ্মে কানায় কানায় পূর্ণ থাকে পুকুরগুলো। যা খুব সহজেই দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান অডিটোরিয়াম সংলগ্ন জলাশয়গুলো এবং চৌরঙ্গী মোড়সংলগ্ন জলাশয়ে সবচেয়ে বেশি পদ্ম ফোটে। তবে বর্তমানে সংস্কার ও যত্নের অভাবে পদ্মের পরিমাণ কমে গেছে।
সাংস্কৃতিক রাজধানী
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ডাকা হয়। হারিয়ে যেতে বসা ঐহিত্যবাহী লোকজ সংস্কৃতিগুলোতে তুলে আনা হয় বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে। সাপ খেলা, লাঠি খেলা, গাজীর গান, পটের গান, পালাগানের আসর, গম্ভীরা, ঘাটুগান, পুতুলনাচ, আদিবাসী নাচ, মনিপুরী নৃত্য, সঙ, বাউল সন্ধ্যা, কাওয়ালী গান, কবিতা পাঠ, শাস্ত্রীয় সংগীতের আসর, কনসার্ট, আর্ট ক্যাম্প, পেইন্টিং ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ নানা ধরনের আয়োজনে পূর্ণ থাকে প্রতি বছর। বিশেষ করে বার্ষিক হিম উৎসবে এসব অনুষ্ঠান বেশি আয়োজিত হতে দেখা যায়। জাহাঙ্গীরনগর সিনে সোসাইটি, জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার, ধ্বনি, চলচ্চিত্র আন্দোলন, জলসিঁড়ি, জহির রায়হান চলচ্চিত্র সংসদ, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, জাহাঙ্গীরনগর ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশন, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি কুইজ সোসাইটি, জাহাঙ্গীরনগর স্টুডেন্টস ফিল্ম সোসাইটি, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রভৃতি সংগঠন কর্তৃক ক্যাম্পাসে প্রতিবছর কোনো না কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। জাবি শুধু তার সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের জন্য নয়, এটি বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর পারস্পরিক সহাবস্থানের জন্যও খ্যাতি অর্জন করেছে। যুগের পর যুগ এখানকার প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর মাঝে ঐক্যভিত্তিক বিভিন্ন আন্দোলন গড়ে তুলতে দেখা গেছে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন, দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন, যৌন নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাত্র সংগঠনগুলোর মাঝে ঐক্য দেখা গেছে।
শহীদ মিনার
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের পর দূর থেকে চোখে পড়ে কলা ও মানবিক অনুষদের সামনের লালচে রঙের সুউচ্চ শহীদ মিনারটি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব স্থাপত্য ভাস্কর্য রয়েছে সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি। শহীদ মিনারের উচ্চতা ৭১ ফুট, যা দেশের শহীদ মিনারগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার প্রতি সম্মান জানিয়ে এ শহীদ মিনারের স্তম্ভের উচ্চতা ৭১ ফুট করা হয়েছে। শহীদ মিনারের ভিত্তিমঞ্চের ব্যাস রাখা হয়েছে ৫২ ফুট, যা ৫২-এর ভাষা আন্দোলনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। শহীদ মিনারের ভিত্তিমঞ্চে ব্যবহার করা হয়েছে আটটি সিঁড়ি, যা দেশভাগ থেকে শুরু করে আমাদের জাতীয় জীবনের স্বাধীনতা অভিমুখী নানা তাৎপর্যমণ্ডিত ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯, ১৯৭০ ও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা পর্যন্ত আটটি ধারাবাহিক আন্দোলনের প্রতীক।
অমর একুশে
সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে এবং ক্যাফেটেরিয়ার সঙ্গেই রয়েছে ভাষা আন্দোলনের স্মরণে নির্মিত অমর একুশে ভাস্কর্য। মা-বাবা তার গুলিবিদ্ধ বীর সন্তানকে ধরে রেখেছে অমর একুশে। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে নিহত হয়েছেন তাদের বীর সন্তান। সেই বীর সন্তানের লাশ বুকে জড়িয়ে রেখেছেন মা। পাশেই ছেলেহারা বাবা হাত উঁচিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। এভাবে হায়েনাদের গুলিতে নিহত ছেলের লাশ হাতে দাঁড়িয়ে থাকা বাবা-মায়ের করুণ মুহূর্তটি ফুটে উঠেছে ‘অমর একুশ’ ভাস্কর্যে।
সংশপ্তক
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য সংশপ্তক। এই ভাস্কর্যে এক পা ও এক হাত হারিয়েও এক সংশপ্তক মুক্তিযোদ্ধা বিজয়ের হাতিয়ার ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, ঐতিহ্য ও চেতনাকে স্মরণ রাখতে নির্মাণ করা হয় ‘সংশপ্তক’। যুদ্ধে পরাজয় ও নিজের নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও লড়াই করে যে অকুতোভয় বীর, সেই সংশপ্তক। ১৯৮৯ সালের ২৬ মার্চ ভাস্কর্যটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক কাজী সালেহ আহমেদ। এক বছর পর অর্থাৎ ১৯৯০ সালের ২৬ মার্চ ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করা হয়। ভাস্কর্যটির নির্মাতা শিল্পী হামিদুজ্জামান খান। শিল্পী হামিদুজ্জামান খান ভাস্কর্যটিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্রোঞ্জের শরীরে প্রতীকী ব্যঞ্জনায় প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন।
কবির সরণি
সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলনে শহীদ ছাত্রদল নেতা হাবিবুর রহমান কবিরের স্মরণে কবির সরণির নামকরণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল সড়ক থেকে আ ফ ম কামালউদ্দিন হল পর্যন্ত এ সরণি বিস্তৃত।
মুন্নী সরণি
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী মুন্নীর স্মরণে আল বেরুনী হলের সামনে রয়েছে মুন্নী সরণি।
জুবায়ের সরণি
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অসন্তোষকে কেন্দ্র করে ২০১২ সালে খুন হন ছাত্রলীগ নেতা ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল সড়ক থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল পর্যন্ত এ সরণি বিস্তৃত। এ ছাড়া, স্বপ্না সরণি, মুরাদ চত্বর, মহুয়া তলা, পরিবহন চত্বর, সুইমিং পুল প্রভৃতি জাবির বিখ্যাত কয়েকটি স্থানের মধ্যে অন্যতম।
বটতলার ভর্তা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বটতলার ভর্তার জন্য বিখ্যাত। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ঢাকার কর্মব্যস্ত মানুষেরা ছুটে আসেন এ ক্যাম্পাসে। বিশেষ করে শীতকালে এ দৃশ্য বেশি দেখা যায়। অতিথি পাখির কলকাকলি ও ক্যাম্পাসে সবুজ প্রকৃতি দেখতে দর্শনার্থীরা এখানে ভিড় করেন। বেলা শেষে কম মূল্য আর স্বাস্থ্যকর খাবারের জন্য বটতলার ভর্তা থাকে সবার পছন্দের শীর্ষে। দোকানিরাও বাহারি সব ভর্তার সাজে দোকানগুলোর খাবারের মেন্যু সাজিয়ে রাখেন। এক সময় শতাধিক প্রকারের ভর্তা পাওয়া গেলেও এখানে বর্তমানে ৩০/৩৫ ধরনের ভর্তা পাওয়া যায়।
সুইজারল্যান্ড : এটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হলের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত একটি স্থানের নাম। এই জায়গার ভিতরে প্রবেশ করলে আপনি মুগ্ধ না হয়ে পারবেন না। সবুজ ঘাসের চাঁদরে ঢাকা উঁচু-নিচুঁ ভূখণ্ডটি দেখতে অনেকটা সুইজারল্যান্ডের গো-চারণ ভূমির মতো। এর তিন দিকে লেক ও বিদেশি জাতের গাছগাছালি বেষ্টিত। লেকের পাশের গাছের সারি স্থানটিকে একেক ঋতুতে দেয় একেক রূপ।
মনপুরা দ্বীপ
বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন লেকের অপর পাড়ের গাছপালা বেষ্টিত দ্বীপের মতো স্থানটিকে শিক্ষার্থীরা মনপুরা দ্বীপ নামে ডেকে থাকেন। মূলত জায়গাটির চারদিকে সুনসান নীরবতা এবং জনমানবহীন পরিবেশের জন্য এ নামকরণ করা হয়েছে।
রাঙামাটি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে একখণ্ড রাঙামাটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক বরাবর উত্তর দিকে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ পেরোলেই চোখে পড়বে সামান্য উঁচুতে অবস্থিত লালমাটির ভূখণ্ডটি। এ ছাড়া টারজান পয়েন্ট, মুরগি চত্বর, লন্ডন ব্রিজ, বৃন্দাবন, সুন্দরবন, শান্তিনিকেতন, লাভল্যান্ড প্রভৃতি স্থানসহ বিচিত্র সব নাম রয়েছে।