২০২৪ সালের মে মাসে সংঘটিত শক্তিশালী সৌরঝড়ের পূর্বাভাস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে দেওয়া সম্ভব ছিল বলে দাবি করেছে ইতালির ইউনিভার্সিটি অফ জেনোয়ার গবেষক দল। অধ্যাপক সাব্রিনা গুয়াস্তাভিনোর নেতৃত্বাধীন এই দল জানিয়েছে, অতীতের সৌর ঘটনাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে এআই এমন ধাঁচ চিহ্নিত করতে পারে, যা সৌর মুকুটের ভর নির্গমন (Coronal Mass Ejection - CME) ঘটার পূর্বাভাস দেয়।
প্রথাগত পদ্ধতিগুলো মূলত মানুষের বিশ্লেষণের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সেগুলো প্রায়শই সময়মতো এবং যথাযথ পূর্বাভাস দিতে ব্যর্থ হয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, উন্নত পর্যবেক্ষণ এবং মডেল তৈরি সত্ত্বেও সৌর অগ্ন্যুৎপাত ও সিএমই-এর ভ্রমণ সময় পূর্বাভাসে এখনও উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, যা গড়ে প্রায় ১২ ঘণ্টার ব্যবধান সৃষ্টি করে।
এআই কীভাবে কাজ করে?
এই এআই মডেল বিশাল পরিমাণ সৌর চিত্র এবং মহাকাশ আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে। সৌর বায়ুমণ্ডলের আচরণে সূক্ষ্ম পরিবর্তন, যেমন চৌম্বক ক্ষেত্রের শক্তি, সৌর বায়ুর গতি এবং সৌর অগ্ন্যুৎপাতের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এটি পূর্বাভাস দেয়।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মে ২০২৪-এর ঘটনাটি দেখিয়েছে, মহাকাশ আবহাওয়া বিজ্ঞানে এআই-নির্ভর পদ্ধতি কতটা কার্যকর। গবেষকেরা মনে করছেন, সিএমই-এর ভ্রমণ সময় নির্ধারণে এই এআই প্রযুক্তি বিদ্যমান মডেলের উন্নয়নেও সহায়ক হতে পারে।
সৌর মুকুটের ভর নির্গমন (CME) কী?
সিএমই হলো সৌর মুকুট থেকে তীব্র গতিতে নির্গত প্লাজমা এবং চৌম্বক ক্ষেত্রের এক বিশাল বিস্ফোরণ। এই বিদ্যুতায়িত গ্যাসের বিশাল মেঘ কয়েকশো মাইল প্রতি সেকেন্ড গতিতে ছুটে এসে পৃথিবীর বিদ্যুৎ গ্রিড, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জিপিএস, বিমান চলাচল এবং স্যাটেলাইটে প্রভাব ফেলে।
২০২৪ সালের সৌরঝড়কে ২০০৩ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী বলে চিহ্নিত করেছে ইসরো। এই ঝড়ের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জিপিএস-এ ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে।
সৌরচক্রের বর্তমান অবস্থা
সৌর কার্যকলাপ প্রতি ১১ বছরে চূড়ান্ত ও নিম্নতম পর্যায় অতিক্রম করে। বর্তমানে সোলার সাইকেল ২৫ চলছে, যা ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নাসা এবং এনওএএ প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সক্রিয়তা লক্ষ্য করেছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সৌর কার্যকলাপের এই অতিরিক্ত সক্রিয়তার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। ভবিষ্যতের পূর্বাভাস আরও উন্নত করতে এবং সূর্যের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে গভীরতর বোঝার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল