আমরা শিক্ষার্থীরা জাতির ভবিষ্যত। আজকে আমাদের চিন্তা ও মতামত আগামী দিনের বাংলাদেশের রূপ গঠনে প্রভাব ফেলবে। তাই আমি স্বপ্ন দেখি এমন এক বাংলাদেশের যেখানে উন্নয়ন, সুশাসন এবং মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে। এই বাংলাদেশ হবে সুখী, সমৃদ্ধ এবং শান্তিপূর্ণ; যেখানে সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।
প্রথমত, রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। আমাদের দেশের রাজনীতি এখনও অনেকাংশে ব্যক্তিপূজায় আবদ্ধ এবং দলীয় স্বার্থে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমি চাই, আগামী দিনে রাষ্ট্রক্ষমতার পুঙ্খানুপুঙ্খ সংস্কার হোক। জনপ্রতিনিধিরা জনগণের প্রকৃত সেবক হয়ে উঠুক এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হোক।
এক্ষেত্রে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমে জনগণ যেন তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে এবং তারা যেন সরকারকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখতে পারে। দ্বিতীয়ত, আমাদের সংবিধানেও কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন। বর্তমান সংবিধান অনেক ক্ষেত্রে আধুনিক যুগের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম নয়।
বিশেষ করে, মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে আরও সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সংবিধানে এমন কিছু সংশোধনী আনা উচিত, যার মাধ্যমে বিচারবিভাগের স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাধারণ জনগণের মতামত আরও গুরুত্ব পায়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির মধ্যে স্বচ্ছতা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য সংবিধানে নতুন ধারাও সংযোজন করা দরকার।
তৃতীয়ত, নির্বাচন ব্যবস্থা একটি শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের সময় অনিয়ম, জাল ভোট, ভীতি প্রদর্শন এবং দলীয় প্রতিহিংসা এখনো প্রাধান্য পাচ্ছে; যা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।
আমি চাই, নির্বাচন ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার হোক। নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন করা উচিত, যাতে নির্বাচন কমিশনাররা কোনও ধরনের রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে। জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে এবং প্রতিটি ভোটের যেন মূল্যবান বিবেচিত হয় সেই ব্যবস্থা করা উচিত।
আগামীর বাংলাদেশ হবে এমন একটি দেশ, যেখানে সব নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ থাকবে। এখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চাকরি, বাসস্থান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা, মানবাধিকার এবং সামাজিক ন্যায়ের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকবে রাষ্ট্রের। একটি আধুনিক, প্রযুক্তি নির্ভর এবং পরিবেশবান্ধব দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বে তার অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।
পরিবর্তন শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও হতে হবে। ধর্ম, বর্ণ, জাতি বা সমপ্রদায় ভেদে কোনো বৈষম্য থাকবে না এবং সবাই একসঙ্গে দেশ গড়তে এগিয়ে আসবে- সেই বাংলাদেশ আমরা দেখতে চাই। এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন সম্ভব যদি আমরা সবাই একযোগে কাজ করি এবং আমাদের রাষ্ট্রের কাঠামোকে আরও গণতান্ত্রিক, সুশাসিত এবং মানবিক করে তুলি।
লেখক : শিক্ষার্থী, ইলেট্রিক্যাল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়।