গত শত বছরে পুরুষদের উচ্চতা ও ওজন বৃদ্ধির হার নারীদের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি হয়েছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। উন্নত পরিবেশ, পুষ্টিকর খাদ্য এবং রোগের চাপ কমার ফলে এই শারীরিক পরিবর্তনগুলো হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইউনিভার্সিটি অব রোহ্যাম্পটনের অধ্যাপক লুইস হ্যালসি এবং তার সহকর্মীরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিভিন্ন দেশের সরকারি তথ্য এবং যুক্তরাজ্যের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, উন্নত জীবনযাত্রার সূচক (HDI) যত উন্নত হয়েছে, পুরুষ ও নারীর উচ্চতা ও ওজন ততটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই সূচকটি তৈরি হয়েছে গড় আয়ু, শিক্ষায় ব্যয়িত সময় এবং মাথাপিছু আয়ের উপর ভিত্তি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, HDI প্রতি ০.২ পয়েন্ট বাড়লে নারীদের উচ্চতা গড়ে ১.৭ সেন্টিমিটার এবং ওজন ২.৭ কিলোগ্রাম বেড়েছে। অথচ পুরুষদের উচ্চতা বেড়েছে ৪ সেন্টিমিটার এবং ওজন বেড়েছে ৬.৫ কিলোগ্রাম।
গবেষকরা যুক্তরাজ্যের ১৯০০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত উচ্চতার ঐতিহাসিক রেকর্ড বিশ্লেষণ করেছেন। সেখানে দেখা যায়, ১৯০০ সালে যুক্তরাজ্যের HDI ছিল ০.৮, যা ২০২২ সালে বেড়ে ০.৯৪-এ পৌঁছেছে। এর ফলে, ১৯০০ থেকে ১৯৫৮ সালের মধ্যে নারীদের গড় উচ্চতা ১৫৯ সেন্টিমিটার থেকে বেড়ে ১৬২ সেন্টিমিটার (১.৯% বৃদ্ধি) হয়েছে। কিন্তু পুরুষদের গড় উচ্চতা একই সময়ে ১৭০ সেন্টিমিটার থেকে বেড়ে ১৭৭ সেন্টিমিটার (৪% বৃদ্ধি) হয়েছে।
অধ্যাপক হ্যালসি বলেন, ১৯০৫ সালে জন্ম নেওয়া প্রতি চারজন নারীর মধ্যে একজন পুরুষদের গড় উচ্চতার চেয়ে লম্বা ছিলেন। কিন্তু ১৯৫৮ সালে এটি কমে আটজনের মধ্যে একজনে নেমে এসেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, উন্নত জীবনযাত্রা এবং পরিবেশ শারীরিক বিকাশে বড় ভূমিকা রাখে। অধ্যাপক হ্যালসি বলেন, এই গবেষণা আমাদের দেখাচ্ছে কীভাবে যৌন নির্বাচনের মাধ্যমে পুরুষ-নারীর শারীরিক গঠন তৈরি হয়েছে এবং উন্নত পরিবেশ আমাদের শারীরিক সীমাবদ্ধতাগুলো থেকে মুক্ত করেছে।
এই গবেষণা থেকে বোঝা যায়, উন্নত পরিবেশে পুরুষ ও নারীর শারীরিক বৃদ্ধি হলেও, পুরুষদের শরীর এতে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। গবেষকরা মনে করেন, এই তথ্য শারীরিক বিকাশ এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবে।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল