তিন দিন ধরে ছুটির দিন শুক্রবারের অপেক্ষায় ছিলেন প্রকাশকরা। পাঠক ও ক্রেতাদের পদচারণে শুক্রবার থেকে মেলা জমে উঠবে- এমন প্রতীক্ষার প্রহর গুনছিলেন তারা। তবে অপেক্ষার প্রহরটা দীর্ঘ হয়নি। গতকাল অমর একুশে বইমেলার চতুর্থ দিনে বইপ্রেমীরা মেলার চিত্রটাই পালটে দিয়েছে। বিকাল ৩টায় মেলার প্রবেশদ্বার উন্মোচনের পর থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে লোকসমাগম। একসময় মেলায় ভিন্ন রকমের আবহ তৈরি করে। বেশির ভাগ প্রকাশক জানিয়েছেন, গত তিন দিনের তুলনায় চতুর্থ দিনে বিক্রি অনেক বেড়েছে। জোনাকী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মঞ্জুর হোসেন বলেন, প্রথম দিনের চেয়ে দ্বিতীয় দিন একটু বেশি, দ্বিতীয় চেয়ে তৃতীয় দিন আরেকটু বেশি আর চতুর্থ দিনে তৃতীয় দিনের চেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। ক্রেতাদের আগমন বৃদ্ধি ও বিক্রি বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে অন্যবারের তুলনায় এবারের মেলা অনেক এগিয়ে থাকবে। বিকালে মেলাপ্রাঙ্গণে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আশা সাঈদের সঙ্গে। প্রকাশনা সংস্থা তাম্রলিপির সামনে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর অন্তিক মাহমুদের অটোগ্রাফ নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। এই তরুণী বলেন, মেলায় এসে ধুলাবালি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। মেলার পরিবেশ আরও ভালো করার ব্যাপারে বাংলা একাডেমিকে যত্নবান হতে হবে।
মেলার পরিবেশ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে প্রকাশনা সংস্থা সাউন্ড বাংলার কর্ণধার মোমিন মেহেদী বলেন, চার দিন পার হওয়ার পরও মেলার পরিবেশ গুছিয়ে উঠতে পারেনি বাংলা একাডেমি। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকা ও ধুলার যন্ত্রণায় মেলায় আগতরা অতিষ্ঠ। এ ছাড়া মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যায় গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা যাচ্ছে না। কলড্রপ করছে এবং ইন্টারনেটও সহজলভ্যও না। এসব বিষয়ে বাংলা একাডেমির যত্নবান হওয়া উচিত। গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে ৪৭টি। বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপ-বিভাগের তথ্য মতে, গত চার দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ৯২টি।
মূল মঞ্চ : বিকালে বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘কুমুদিনী হাজং : জুইলৗ তারা, তারালা জুই’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পাভেল পার্থ। আলোচনায় অংশ নেন মতিলাল হাজং এবং পরাগ রিছিল। সভাপতিত্ব করেন আবু সাঈদ খান। এদিকে, লেখক বলছি মঞ্চে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি আতাহার খান, কথাসাহিত্যিক পাপড়ি রহমান।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি আবদুল হাই শিকদার, কবি সোহেল হাসান গালিব। আবৃত্তি করেন ইশরাত শিউলি এবং কাজী বুশরা আহমেদ তিথি।
শিবিরের স্টল উদ্বোধন : এবার বইমেলায় স্টল পেয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। বিকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা সংস্থা আইসিএস পাবলিকেশন্সের উদ্বোধন করেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিগত সময়গুলোতে সবাইকে বইমেলায় সুযোগ দেওয়া হয়নি। এবার ছাত্রশিবিরসহ সব মতের প্রকাশনা সংস্থা সুযোগ পেয়েছে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ, প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, পরিকল্পনা সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।