পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার জওয়ানদের নিরপরাধ বলে দাবি করেছেন তাদের স্বজনরা। একই সঙ্গে বন্দি জওয়ানদের মুক্তির দাবিতে পদযাত্রা করেছেন। এ সময় তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। তবে তাদের পক্ষ থেকে ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিলকে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিতে নিয়ে যায় পুলিশ।
গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিডিআর বিদ্রোহে আটক বন্দিদের স্বজনরা পদযাত্রা শুরু করেন। পদযাত্রাটি শাহবাগ মোড়ে পৌঁছালে তা পুলিশ আটকে দেয়। বিকাল পৌনে ৪টা পর্যন্ত স্বজনরা শাহবাগ জাদুঘরের সামনে অবস্থান চালানোর পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফিরে যান। ভোরের আলো ফোটার আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর। চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের পুনর্বহাল এবং কারাগারে থাকা সদস্যদের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করা হয় সেখানে। মানববন্ধনে সাবেক বিডিআর সদস্যদের পাশাপাশি কারাগারে থাকা পরিবারের লোকজন অংশ নেন। এ সময় বিগত সরকারের নানা সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানো হয়। তাদের বক্তব্যে ফুটে ওঠে গত ১৫ বছরের ক্ষোভ আর নির্যাতনের কত শত গল্প।
বিডিআর পরিবারের সদস্যরা বলেন, তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার নীলনকশার অংশ হিসেবেই ২০০৯ সালে পরীক্ষিত সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়। একই সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয় বিডিআর সদস্যদের।
সমাবেশ থেকে বিডিআর সদস্যদের বিরুদ্ধে করা বিস্ফোরক মামলায় সবার জামিনের পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কারাগারে থাকা সদস্যদের মুক্তির আলটিমেটাম দেওয়া হয়। বেলা বাড়তেই দাবিগুলোর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সমাবেশে অংশ নেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারাও। তারা বলেন, পিলখানা হত্যাকান্ডের দিনটিকে সেনা হত্যা দিবস ঘোষণা করতে হবে। জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রে বিডিআর সদস্যদের দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও করেন তারা।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মনসুর বলেন, কারাগারে থাকা ও চাকরিচ্যুত বিডিআর জওয়ানদের পরিবারের সদস্যরা এসে শাহবাগে অবস্থান নিলে শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্বিদ্যালয়ের দিকে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদর দপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। এ ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। হত্যা মামলায় খালাস বা সাজা ভোগ শেষে বিস্ফোরক মামলার কারণে ৪৬৮ জনের মুক্তি আটকে যায়।