তুষার আর ভয়াবহ ঝড়ের কবলে লন্ডভন্ড হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ স্টেটের জনজীবন। এর মধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশি অধ্যুষিত রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া, ম্যাসাচুসেটস ও ইলিনয়। প্রচণ্ড হিমশীতল আবহাওয়ার কারণে সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ ১০ হাজারের মতো ফ্লাইট বাতিল অথবা বিলম্বিত হয়েছে। দূরপাল্লার ট্রেন এবং বাস চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্যানসাস, কেন্টাকি, আরকানস, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, ভার্জিনিয়া, মিজৌরিতে পুরোপুরি এবং নিউজার্সির কিছু অংশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়া এলাকার ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশিসহ ৬ কোটি মার্কিনি শনিবার রাত থেকেই এক ধরনের গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন। এসব স্থানের অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল সোমবার। মঙ্গলবারও কোনো কোনো এলাকার অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মিজৌরি থেকে ভার্জিনিয়া পর্যন্ত এলাকায় ৩ লাখের বেশি বাড়ি-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। সোমবার রাতে জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের বুলেটিনে ছযজনের মৃত্যুর সংবাদ দেওয়া হয়েছে। ওয়াইওমিংয়ের একটি পর্বতে হিমবাহের মধ্যে এক ট্যাক্সিচালকের মৃত্যু হয়েছে। বরফে ঢাকা সড়কে গাড়ি দুর্ঘটনায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন। মিজৌরির সড়ক-মহাসড়কে ১ হাজার ৭০০ গাড়ি আটকা পড়েছে। মহাসড়কের যানজট অবসানে ভার্জিনিয়া, ইন্ডিয়ানা, ক্যানসাস, কেন্টাকি, নেব্রাস্কা স্টেটে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি নাজুক অবস্থায় নিপতিত হয়েছে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি, ভার্জিনিয়া এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার বিস্তীর্ণ জনপদ। সোমবার রাত পর্যন্ত এক ফুটের বেশি তুষারপাত হয়েছে ডিসিতে। রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্ট সোমবার অপরাহ্ন থেকেই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এমন অসহনীয় বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে বলেও আবহাওয়া দপ্তর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।
এমন চরম বৈরী আবহাওয়া তৈরি হয়েছে উত্তর মেরু অঞ্চলের ঘূর্ণাবর্তের কারণে। এই ঘূর্ণাবর্তে চরম শীতল বাতাসের একটি এলাকা যেটি আর্কটিক মহাসাগরের চারপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। সেখান থেকেই হিমশীতল আবহাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলে নেমে আসছে আর তাতে চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে এবং তা মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত জনজীবনকে বিপন্ন করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া দপ্তর।